সুপার সাইক্লোন আম্পান গভীর সাগর থেকে উপকূলের আরও কাছাকাছি চলে এসেছে। আগামীকাল বুধবার বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে এই ঘূর্ণিঝড়। এখন পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়টির সম্ভাব্য যে গতিপথ, তাতে এটি খুলনা ও চট্টগ্রামের মধ্যবর্তী অঞ্চলের ওপর দিয়ে বাংলাদেশ অতিক্রম করবে।

 

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে খুলনা, সাতক্ষীরাসহ বেশ কিছু উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি শুরু হয়েছে। বইছে ঝোড়ো বাতাসও। পায়রা ও মোংলা সমুদ্রবন্দরসহ উপকূলীয় অঞ্চলে ৭ নম্বর বিপৎসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের কারণে চট্টগ্রাম বন্দরে বিশেষ অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। সরিয়ে নেওয়া হয়েছে জাহাজ।

একনজরে আম্পান পরিস্থিতি

 

* সুপার সাইক্লোন ‘আম্পান’ বঙ্গোপসাগর থেকে উত্তর, উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে মঙ্গলবার বিকেলে একই এলাকায় অবস্থান করছে।

* মঙ্গলবার বেলা তিনটায় পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৬৫ কিলোমিটার ও মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৭০ দক্ষিণ, দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৮৫ কিলোমিটার ও কক্সবাজার থেকে ৭৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল।

* ২০ মে বুধবার বিকেল অথবা সন্ধ্যার মধ্যে খুলনা ও চট্টগ্রামের মধ্যবর্তী অঞ্চলের ওপর দিয়ে বাংলাদেশ অতিক্রম করবে।

* পায়রা ও মোংলা সমুদ্রবন্দরসহ উপকূলীয় অঞ্চলে ৭ নম্বর বিপৎসংকেত। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৬ নম্বর বিপৎসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

* মঙ্গলবার বিকেলে সুপার সাইক্লোন কেন্দ্রের ৮৫ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ২২০ কিলোমিটার পর্যন্ত।

* সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে মঙ্গলবার দুপুর ১২টার পর থেকে বৃষ্টি শুরু।

* খুলনার কয়রায় বৃষ্টি শুরু মঙ্গলবার বেলা ১টায়।

* সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, ভোলা, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর এবং এসব জেলার অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরাঞ্চলে ৫ থেকে ১০ ফুটেরও বেশি উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাস হতে পারে।

 

* সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, ভোলা, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর এবং এসব জেলার অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরাঞ্চলে ১৪০ থেকে ১৬০ মিটার বেগে ঝোড়ো বাতাসসহ অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে।

 

* উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরের নৌযানগুলোকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয় যেতে বলা হয়েছে।

সূত্রঃ প্রথম আলো