আমি কি মল, জীবজন্তু, পোষা প্রাণী, কোনো স্থান/জায়গা থেকে কোভিড -১৯ এ আক্রান্ত হতে পারি ?

কোভিড -১৯ রুগীর মল-মুত্র থেকে কি এই রোগ ছড়াতে পারে? এই রোগে আক্রান্ত হওয়া কারো মল-মুত্র থেকে কোভিড -১৯ রোগটি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কম বলে মনে হয়। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে যে এই ভাইরাসটি কখনো কখনো মল-মুত্রে থাকলেও এর মাধ্যমে রোগটি ছড়িয়ে পড়েনি। কোভিড -১৯ সংক্রমণের মাধ্যম সম্পর্কে যে গবেষণা চলছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তার মূল্যায়ন করছে । যেহেতু এটি একটি ঝুঁকির কারন, তাই বাথরুম ব্যবহার করার পরে এবং খাওয়ার আগে নিয়মিত হাত পরিষ্কার করা খুব জরুরি। মানুষ কি কোনও প্রাণীর উৎস থেকে কোভিড -১৯ এ সংক্রমিত হতে পারে? জীবজন্তুর থেকে যেইসব খাবার আসে, যেমন মাংস, দুধ ইত্যাদি থেকে কি কোভিড -১৯ ছড়াতে পারে? জীব জন্তুর মধ্যে করোনাভাইরাস পাওয়া যেতে পারে। মাঝে মাঝে মানুষের মধ্যে এই ভাইরাসগুলি ছড়িয়ে পরে । যেমন, সার্স -কোভ সিভেট বিড়ালের সাথে যুক্ত ছিল এবং মার্স -কোভ ড্রোমেডারি উট থেকে ছড়িয়েছিল। কোভিড -১৯ কি ধরনের জীবজন্তু থেকে ছড়ায় তা এখনও ঠিকভাবে জানা যায়নি। মাছ মাংস ও পশুর বাজারগুলিতে যাওয়ার সময়, নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে পশু এবং পশুর সংস্পর্শে আসা যেকোনো জিনিস ছোঁবেন না । রোগ থেকে বাঁচতে কাঁচা মাংস, দুধ ও প্রাণীজাতীয় খাবার নাড়াচাড়া বা ছোঁয়ার সময় সাবধান থাকুন এবং শুধুমাত্র ভালভাবে রান্না করা খাবার খান। কাঁচা বা অর্ধেক রান্না করা খাবার খাবেন না। আমি কি আমার পোষা প্রাণীর থেকে কোভিড -১৯ এ পেতে পারি? কুকুর, বিড়াল বা কোনও পোষা প্রাণীর থেকে কোভিড -১৯ ছড়ানোর কোনও প্রমাণ নেই। নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে বারবার সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। তবে, আপনি যদি অসুস্থ হন, অন্য লোকদের থেকে এবং পোষা প্রাণী থেকে আলাদা থাকবেন।

সংক্রমিত জায়গা বা সংক্রমিত অঞ্চল থেকে আসা প্যাকেজ (প্যাকেট, যেমন প্লাষ্টিক ব্যাগ, পলিথিন ব্যাগ, কার্ড বোর্ডের বাক্স, কাগজের ব্যাগ) থেকে কি কোভিড -১৯ এর সংক্রমণ হতে পারে?

হ্যাঁ, কোনও সংক্রমিত ব্যক্তির থেকে বাণিজ্যিক পণ্য দূষিত হওয়ার সম্ভাবনা কম এবং এমন কোনও প্যাকেজ যা স্থানান্তরিত হয়েছে বা বিভিন্ন পরিস্থিতি ও তাপমাত্রার সংস্পর্শে এসেছে, তা থেকে কোভিড -১৯ এর ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকিও কম। তাহলেও, প্যাকেটের বাইরের দিকটা জীবাণু নাশক দিয়ে পরিষ্কার করবেন বা কভারটা ফেলে দিবেন, তারপর নিজের হাত ধুয়ে ফেলবেন l ফল এবং তরী তরকারি ভালো ভাবে পানি দিয়ে ধুয়ে নিবেন l

আমি, আমার আপনজন এবং প্রতিবেশীদের সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচাতে চাইলে আমার কি করা উচিত?

- অ্যালকোহল যুক্ত হ্যান্ড রাব দিয়ে হাত ঘষা বা সাবান এবং পানি দিয়ে আপনার হাত নিয়মিত এবং পুরোপুরি ভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করুন। কারণ সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধুলে বা অ্যালকোহল যুক্ত হ্যান্ড রাব দিয়ে হাত ঘষলে আপনার হাতে থাকা যেকোনো ভাইরাস মরে যায়। সঠিকভাবে হাত ধোয়ার ভিডিওটা দেখুন: www.ex.com (corona portal) - অন্য মানুষের থেকে ৩ ফুট (১ মিটার) দূরে থাকুন - হাঁচি বা কাশি আছে এমন যেকোন ব্যাক্তির থেকে কমপক্ষে ৩ ফুট (১ মিটার) দূরত্ব বজায় রাখুন। কারণ যখন কেউ কাশে বা হাঁচি দেয় তখন তাদের নাক বা মুখ থেকে ক্ষুদ্র পানির কণা বেরোয় যার মধ্যে করোনা ভাইরাস থাকতে পারে। আপনি যদি এই হাঁচি / কাশি হওয়া ব্যাক্তির খুব কাছাকাছি থাকেন এবং যদি তাঁর মধ্যে করোনা ভাইরাস থেকে থাকে, তাহলে আপনার নিঃশ্বাস এর মাধ্যমে ওই ক্ষুদ্র পানির কণা করোনাভাইরাস সহ আপনার শরীরে প্রবেশ করবে। - পারতপক্ষে চোখ, নাক এবং মুখ স্পর্শ করবেন না। কারণআমাদের হাত নানারকম জায়গা স্পর্শ করে যেখানে ভাইরাস থাকতে পারে। এই দূষিত হাত আপনার চোখ, নাক বা মুখে ভাইরাস পৌঁছে দিতে পারে। সেখান থেকে ভাইরাসটি আপনার দেহে প্রবেশ করতে পারে এবং আপনাকে অসুস্থ করতে পারে। - আপনার চারপাশের লোকেরা সঠিক ভাবে হাঁচি কাশি সম্পর্কিত শিষ্টাচার মেনে চলছে কিনা তা সুনিশ্চিত করুন। এর অর্থ আপনার কাশি বা হাঁচি পেলে কনুই দিয়ে বা টিস্যু দিয়ে নিজের মুখ এবং নাক ঢেকে নিন। তারপরে অবিলম্বে ব্যবহৃত টিস্যুগুলি একটি ঢাকনা যুক্ত ময়লা ফেলার বিনে ফেলে দিন। কারণ নাক-মুখ থেকে বেরিয়ে আসা ক্ষুদ্র পানির বিন্দু ভাইরাস ছড়ায়। সঠিক ভাবে হাঁচি কাশি সম্পর্কিত শিষ্টাচার পালন করে আপনি আপনার চারপাশের লোকজনকে ঠান্ডা, সর্দিজ্বর এবং কোভিড -১৯ এর ভাইরাস থেকে রক্ষা করতে পারবেন। - অসুস্থ বোধ করলে বাড়িতে থাকুন। যদি আপনার জ্বর, কাশি এবং শ্বাস নিতে সমস্যা হয় তবে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং আগাম কল করুন। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের নির্দেশাবলী অনুসরণ করুন l কারণ জাতীয় ও স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের কাছে আপনার অঞ্চলের পরিস্থিতি সম্পর্কে সর্বশেষ তথ্য থাকবে। আগে থেকে কল করলে আপনার স্বাস্থ্যকর্মী আপনাকে দ্রুত পরামর্শ দেবে এবং চিকিৎসার জন্য সঠিক হাসপাতালে যাওয়ার নির্দেশ দেবে। এর ফলে আপনি নিরাপদ থাকবেন এবং অন্য ভাইরাস ও জীবাণুর সংক্রমণ থেকে মুক্ত থাকবেন l - কোভিড -১৯ এর সব নতুন হটস্পটগুলি (শহর বা স্থানীয় অঞ্চল যেখানে কোভিড -১৯ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে) সম্বন্ধে সচেতন থাকুন। এই জায়গায় গুলিতে কোনো কাজের জন্য যাবেন না - বিশেষত আপনি যদি বয়স্ক ব্যক্তি হন বা আপনার ডায়াবেটিস, হার্ট বা ফুসফুসের রোগ থাকে। কারণ এই জায়গাগুলি তে আপনার কোভিড -১৯ এ আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

কোভিড -১৯ খুব তাড়াতাড়ি ছড়িয়ে পড়েছে এমন জায়গায় বাসা হলে বা এমন জায়গায় অবস্থান করলে আমার কি করা উচিত?

কোভিড -১৯ খুব তাড়াতাড়ি ছড়িয়ে পড়েছে এমন জায়গায় বাসা হলে বা এমন জায়গায় অবস্থান করলে আমার কি করা উচিত? আপনি যদি সম্প্রতি (গত ১৪ দিন) এমন জায়গায় গিয়ে থাকেন যেখানে কোভিড -১৯ ছড়িয়ে পড়েছে তবে ১৫ নম্বর প্রশ্নের (নিজেকে রক্ষা করতে এবং রোগ ছড়ানো প্রতিরোধ করতে আমি কী করতে পারি?) উত্তরে দেওয়া নির্দেশগুলি মেনে চলুন এবং সাথে নিচের নির্দেশগুলিও মেনে চলুন: -হাল্কা মাথা ব্যাথা, জ্বর (৩৭.৩ সেলসিয়াস বা তার বেশি ) ও সর্দি জাতীয় লক্ষণ নিয়ে যদি আপনি অসুস্থ বোধ করেন তাহলে পুরোপুরি সেরে না ওঠা পর্যন্ত ঘরে থেকে নিজেকে সবার কাছ থেকে আলাদা রাখুন। বাড়িতে থাকুন l কাউকে দিয়ে দরকারি জিনিসপত্র, খাবারদাবার বা ওষুধ আনিয়ে নিন l যদি নিতান্তই বাইরে যাবার দরকার হয়, তাহলে মাস্ক পরে বাইরে বের হন। কারণ অন্যের সাথে যোগাযোগ এড়িয়ে চললে এবং হাসপাতাল / ডাক্তারখানায় সামান্য রোগ এর জন্য ভিড় না করলে, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য পরিষেবাগুলি আরও ভালোভাবে কাজ করতে পারবে এবং সবাইকে সম্ভাব্য কোভিড -১৯ এবং অন্যান্য ভাইরাস থেকে রক্ষা করতে পারবে l যদি আপনার জ্বর, কাশি এবং শ্বাস নিতে সমস্যা হয় - সরকারি হেল্পলাইনে (৩৩৩, ১০৬৫, ১৬২৬৩ ) কল করুন । কারণ আগে থেকে কল করলে আপনার স্বাস্থ্যকর্মী দ্রুত আপনাকে সঠিক স্বাস্থ্য সুবিধা / চিকিৎসার কথা জানাতে পারবে। এটি কোভিড -১৯ এবং অন্যান্য ভাইরাসগুলির বিস্তার রোধ করবে ।

এমন কিছু আছে যা আমার করা উচিত নয়?

নিচের বিষয়গুলি কঠোরভাবে মেনে চলুন (যেহেতু এই গুলি ক্ষতিকারক) : ১। ধূমপান না করা ২। একটার বেশি মাস্ক না পরা ৩। ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া কোনও অ্যান্টিবায়োটিক না খাওয়া যদি আপনার জ্বর, কাশি বা শ্বাসকষ্ট হয়, দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন| পরামর্শের জন্য হেল্পলাইন নম্বরে কল করুন - ৩৩৩, ১৬২৬৩, ১০৬৫৫|

কিভাবে মানসিক চাপ সহ্য করতে পারি?

বর্তমান পরিস্থিতিতে দুঃখ অনুভব করা, মানসিক চাপ, ভয় পাওয়া, মানসিক ভাবে ক্লান্ত বোধ করা , বিভ্রান্ত, বা রাগ হওয়া স্বাভাবিক ব্যাপার । এক্ষেত্রে করনীয় ১। আপনজনের সাথে কথা বলা আপনার জন্য ভালো হবে । আপনার বন্ধুদের সাথে, কাছের মানুষ ও আত্মীয় স্বজনের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন । ২। আপনাকে বাড়িতেই থাকতে হবে, তাই স্বাস্থ্যকর জীবনধারা মেনে চলুন, পুষ্টিকর খাবার খান, পর্যাপ্ত ঘুমান এবং ব্যায়াম করুন । স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন আপনাকে দুশ্চিন্তা মুক্ত রাখবে । ৩। দুশ্চিন্তা দূর করার জন্য ধূমপান, মদ্যপান বা কোনো ড্রাগ ব্যবহার করবেন না । আপনি যদি খুব বেশি মানসিক চাপ বোধ করেন, তাহলে কোনও স্বাস্থ্যকর্মী বা কাউন্সেলর এর সাথে কথা বলুন। ভাল করে পরিকল্পনা করুন, যে দরকার হলে আপনি নিজের শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য কোথায় যাবেন এবং কিভাবে সাহায্য চাইবেন l সঠিক সূত্র (স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, এর ওয়েবপেজ, স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ) থেকে খবর যোগাড় করুন। ৪। মিডিয়া তে প্রচার করা যে সমস্ত খবরাখবর আপনাকে চিন্তিত বা ব্যথিত করে তোলে, আপনি ও আপনার পরিবার সেই গুলি দেখবেন না । ৫। ইতোপূর্বে আপনার জীবনের কঠিন সময়ে আপনি যে সমস্ত গুণ দিয়ে কঠিন সময়ের মোকাবিলা করেছেন, সেই গুণগুলির কথা মনে করুন। এই মহামারির কঠিন সময়ে, নিজের অনুভূতি কে সঠিক পথে চালিত করতে সেই দক্ষতাগুলি ব্যবহার করুন।

কোভিড -১৯ এর সময় শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় করণীয় কী?

পরামর্শঃ ১. শিশুরা মানসিক চাপের মুখে নানারকম ভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে যেমন মায়ের গায়ের সাথে বেশি লেপ্টে থাকা , কথা না বলা, বিনা কারণে রেগে যাওয়া বা উত্তেজিত হওয়া, বিছানা ভিজিয়ে দেওয়া, ইত্যাদি। আপনার সন্তানের বিরূপ প্রতিক্রিয়াতে সহানুভূতির সাথে সাড়া দিন, তারা কি বলতে চায় শুনুন এবং তাদের অনেক বেশি ভালোবাসা এবং মনোযোগ দিন। ২. কঠিন সময়ে শিশুদের প্রয়োজন বড়দের ভালবাসা এবং মনোযোগ। তাদের বেশি সময় দিন। আপনার শিশুদের কথা শুনুন, তাদের সাথে সুন্দর করে কথা বলুন এবং তাদেরকে আশ্বস্ত করুন। যদি সম্ভব হয় তবে শিশুদের খেলার, ছবি আঁকার এবং আরাম করার সুযোগ করে দিন। ৩. শিশুদের তাদের মা-বাবা এবং পরিবারের কাছাকাছি রাখার চেষ্টা করুন এবং যতটা সম্ভব শিশুকে তার দেখাশোনা করার লোকের থেকে আলাদা করবেন না। যদি কোন কারণে তাদের আলাদা হতে হয় (যেমন হাসপাতালে ভর্তি হলে) তাহলে রোজ তাদের যোগাযোগ ( যেমন ফোনের মাধ্যমে) করিয়ে দিন এবং সবসময় আশ্বাস দিন। ৪. যতটা সম্ভব রোজকার রুটিনমাফিক কাজ করে যান অথবা স্কুল/লেখাপড়া, খেলাধুলা এবং আরাম করা সহ নতুন পরিবেশে নতুন রুটিন তৈরি করুন। ৫. যা ঘটছে সে সম্পর্কে শিশুদের জানান, এখন কি চলছে তা বুঝিয়ে বলুন এবং কিভাবে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমাবেন সেটা তাদের বয়স অনুযায়ী এবং তারা বুঝতে পারে এমন শব্দ ব্যবহার করে বুঝিয়ে বলুন। তাদের বয়সের উপর নির্ভর করে তাদের উপযোগী তথ্য দিন। কি হতে পারে তা সহজ ভাষায় বুঝিয়ে তাদের আশ্বস্ত করুন (যেমন কোনও পরিবারের সদস্য এবং / অথবা শিশু নিজে অসুস্থ বোধ করতে পারে এবং কিছু সময়ের জন্য তাকে/ তাদের হাসপাতালে যেতে হতে পারে যাতে ডাক্তাররা তাদের সুস্থ করে তুলতে সাহায্য করতে পারে )। ৬. সরাসরি হেল্প লাইন এর নম্বরগুলি তাদের কাছে দিয়ে রাখতে পারেন যেন জরুরি প্রয়োজনে তারা ব্যবহার করতে পারে।

আমার বাড়ির বাইরে যাওয়া জরুরি, এক্ষেত্রে আমি কী কী স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবো?

একান্তই যদি বাড়ির বাইরে যেতে হয় তবে দয়া করে নিচের নিয়মগুলি মেনে চলুন: - সাবান দিয়ে বারে বারে হাত ধুয়ে নিন l অন্যদেরকেও বলুন l - চোখ, মুখ ও নাকে হাত দিবেন না l অন্যদেরকেও বলুন l - একান্তই যদি আপনাকে বাড়ির বাইরে যেতে হয়, তবে মাস্ক পরে মুখ ও নাক ঢেকে নিবেন l মাস্ক বাসাতেও বানানো সম্ভব l - কখনো মাস্ক পরে না থাকলে, কাশি বা হাঁচি দেয়ার সময় কনুই দিয়ে নিজের মুখ ঢেকে রাখবেন l টিস্যু পেপার বা পরিষ্কার রুমাল দিয়েও নাকমুখ ঢেকে রাখতে পারেন l বিস্তারিত জানতে https://www.youtube.com/watch?v=zFsD3tBGSPw&feature=youtu.be এই ভিডিওটা দেখুন l - ভিড় এড়িয়ে চলুন এবং অন্যদের থেকে কমপক্ষে ৩ ফিট অর্থাৎ ১ মিটার দূরত্ব বজায় রাখুন l - পরিষ্কার ও পুষ্টিকর খাবার খান l

আমি সম্প্রতিক বিদেশ থেকে এসেছি, এখন স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আমার কী কী নির্দেশনা মেনে চলা উচিৎ?

আক্রান্ত জায়গা থেকে ফিরে আসা যাত্রীদের উচিত: * ১৪ দিনের জন্য নিজের দায়িত্বে লক্ষণগুলোর ওপর নজর রাখা এবং সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করা । * বিদেশ থেকে ফিরে আসা যাত্রীদের কোয়ারেন্টাইন এ থাকার দরকার হতে পারে। এরচেয়ে বেশি জানতে নিচের ভিডিও দুটি দেখুন: https://youtu.be/B9Qu_rV-Ap0 https://youtu.be/czLWu5h49DA বিদেশ ফেরত ব্যাক্তিদের যদি জ্বর, কাশি বা শ্বাসকষ্টের মতো লক্ষণ দেখা দেয় তবে জরুরি ভিত্তিতে স্থানীয় ডাক্তার, হাসপাতাল বা ক্লিনিকের সাথে যোগাযোগ করুন। সরকারি হেল্পলাইন নম্বর গুলিতে (৩৩৩, ১৬২৬৩, ১০৬৫৫) ফোন করে আপনার সাম্প্রতিক ভ্রমণ ইতিহাস এবং লক্ষণগুলো জানিয়ে দিন। কোনোকিছু গোপন করলে আপনি সঠিক চিকিৎসা পাবেন না এবং আপনার ক্ষতি হবে।

কর্মক্ষেত্রকে কিভাবে কোভিড-১৯ থেকে নিরাপদ রাখতে পারি?

যে সকল কর্মক্ষেত্রে কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েনি সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ তাদের নিজ কর্মক্ষেত্রে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো নিশ্চিত করবেন- ১। কর্মস্থল পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন এবং স্বাস্থ্যকর কিনা তা নিশ্চিতকরণঃ জীবাণুনাশক দিয়ে প্রে ও টেবিলের পৃষ্ঠতল এবং নিত্য ব্যবহার্য্য বস্তু (যেমন টেলিফোন, কিবোর্ড) নিয়মিত মুছতে কারণ পৃষ্ঠতলে থাকা জীবাণু দ্বারা সহজে সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকে। ২। কর্মচারী ঠিকাদার এবং গ্রাহকদের নিয়মিত যথাযথভবে হাত ধোয়ার অভ্যাস করানোঃ সাবান পানি দিয়ে হাত ধোয়া কেননা সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করলে ভাইরাস ধ্বংস এবং কোভিড-১৯ বিস্তারে বাধা সৃষ্টি করে। ৩। কর্মক্ষেত্রের প্রবেশপথে বা আশেপাশে সহজে দৃষ্টিগোচর হয় এমন স্থানে হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখার ব্যবস্থা করা। ৪। সঠিকভাবে হাত ধোয়ার নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট পোস্টার দৃষ্টিগোচর স্থানে প্রদর্শন করা এবং স্থানীয় জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সাহায্য নিন। ৫। হাত ধোয়ার ব্যাপারে উৎসাহিত করার জন্য পেশাদার জনস্বাস্থ্য কর্মকতার দিকনির্দেশনা, বিভিন্ন সভায়, বিভিন্ন সভায় প্রদত্ত সচেতনতামূলক বার্তা এবং ইন্টারনেটে ব্যবহৃত গ্রহনযোগ্য এবং বিশ্বাসযোগ্য তথ্যাদি ব্যবহার করা। ৬। কর্মী, ঠিকাদার এবং গ্রাহকদের সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। ৭। কমক্ষেত্রে শ্বাস-প্রশ্বাস জনিত স্বাস্থ্যবিধি প্রচার করা- - শ্বাস প্রশ্বাসজনিত পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে পোস্টার প্রদর্শন। কেননা, শ্বাস প্রশ্বাসের পরিচ্ছন্নতা কোভিড-১৯ সংক্রমণ রোধ করে। - শ্বাস প্রশ্বাসজনিত পরিচ্ছনতায় উৎসাহিত করার জন্য কর্মক্ষেত্রে পেশাদার জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তার দিকনির্দেশনা, বিভিন্ন সভায় প্রদত্ত সচেতনতামূলক বার্তা এবং ইন্টারনেটে ব্যবহৃত গ্রহনযোগ্য এবং বিশ্বাসযোগ্য তথ্যাদি ব্যবহার করা। - কর্মস্থলে কর্মচারীদের বিশেষ করে যাদের সর্দি বা কাশি আছে তাদের জন্য ফেস মাস্ক/কাগজের টিস্যু/রুমাল সহজলভ্য করা ও তাদের ব্যবহৃত ফেসমাস্ক /কাগজের টিস্যু/রুমালের যথাযথ ব্যবস্থাপনা এবং ধ্বংশ করা নিশ্চিত করা। ৮। জরুরী পেশাদারী কাজে ভ্রমণে যাওয়ার আগে কর্মচারী এবং ঠিকাদারদের “ভ্রমণ সম্পর্কিত জাতীয় নির্দেশনা” জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেয়া। ৯। কর্মচারী, ঠিকাদার এবং সেবা গ্রহণকারীদের এই মর্মে অবহিত করা যে, যদি কোনভাবে কোভিড-১৯ তাদের নিজ নিজ এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে (হালকা কাশি বা স্বল্প জ্বর ৯৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার সামান্য বেশি হয়) তাহলে তাদেরকে বাড়িতেই থাকতে হবে বা বাড়িতে থেকেই কাজ করতে হবে। এসময় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সাধারণ ঔষধ যেমন প্যারাসিটামল, আইবুপ্রোফেন বা অ্যাসপিরিন ইত্যাদি ঔষধ গ্রহণ করা যেতে পারে। ১০। যদি কারো কোভিড-১৯ এর খুব সাধারণ লক্ষণও দেখা দেয় তাহলে তাকে অবশ্যই সার্বক্ষণিক ঘরের মধ্যে থাকতে হবে। একথা দৃঢ়ভাবে প্রচার করতে হবে। ১১। কর্মস্থলে উপরোক্ত বার্তা সম্বলিত পোস্টার প্রদর্শন করুন এবং অন্যান্য মাধ্যমে যেমন স্থানীয় যোগাযোগের চ্যানেলগুলিতে (ক্যাবল অপারেটর/কমিউনিটি রেডিও) প্রচার করুন। ১২। স্থানীয় জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত এবং প্রস্তুতকৃত বার্তা প্রচারের সামগ্রীসমূৃহের ব্যবহার নিশ্চিত করুন। * সংবেদনশীল এই সময়ে, কর্মীদের অসুস্থাতাজনিত ছুটির অনুমোদন নিশ্চিত করতে হবে। উপরে উল্লেখিত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে কোভিড-১৯ এর বিস্তার রোধ করা সম্ভব

কর্মস্থলে কোভিড-১৯ ছড়িয়ে পড়লে আমরা কি করব?

কোভিড-১৯ ছড়িয়ে পড়লে কর্মক্ষেত্র প্রস্তুতকরণঃ কর্মক্ষেত্রে কোন কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত সন্দেহভাজন ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়লে কি করণীয় তার একটি পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে; কর্মস্থলেঃ • অসুস্থ ব্যক্তিকে এমন কোন স্থানে রাখতে হবে যেখানে তারা অন্যদের থেকে বিচ্ছিন্ন (Isolation) থাকবে: সেই সাথে অসুস্থ ব্যক্তির সাথে যথাসম্ভব কম সংখ্যক মানুষ যেন যোগাযোগ করে নিশ্চিত করতে হবে এবং স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। • কর্মস্থলে অন্যান্য কুঁকিপর্প ব্যক্তিদের কীভাবে চিহ্নিত করা যায় তা বিবেচনা করতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে যেন কেউ নিগ্রহ বা বৈষম্যের শিকার না হয়; সম্প্রতি কোতিড-১৯ আক্রান্ত অঞ্চল ভ্রমণ করেছেন এমন কর্মীদের মধ্যে যারা গুরোতরো অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন (ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, ফুসফুসের রোগ এবং বেশি বয়স) তাদেরকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে অগ্রাধিকার দিতে হবে। • কোতিড-১৯ প্রতিরোধে আপনার করা পরিকল্পনা সম্পর্কে স্থানীয় জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে এবং প্রয়োজনে তাদের মতামত গ্রহণ করতে হবে। • দপ্তর বা সংস্থায় নিয়মিত টেলিযোগাযোগের মাধ্যমে কর্মসম্পাদনের ব্যবস্থা করতে হবে। কোভিড-১৯ এর প্রাদুভাব ঘটলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ গণপরিবহন এবং জনসমাগম এড়াতে জনগণকে পরামর্শ দিতে পারে; সেক্ষেত্রে টেলিযোগাযোগ কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ব্যাবসা বা কর্মক্ষেত্রকে সচল রাখতে সহায়তা করবে। • কোন সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান যে এলাকায় আবস্থিত সেখানে কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাব ঘটলে তার জন্য একটি দুর্যোগকালীন ব্যাবস্থাপনা পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে যা- - প্রণয়নকৃত দুর্যোগকালীন ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে সমাজ বা কর্মক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়া কোতিড-১৯ মোকাবেলায় সামর্থ করবে। অন্যান্য জরুরী স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী সংস্থার ক্ষেত্রেও এই পরিকল্পনা প্রযোজ্য। - পরিকল্পননাটি এমন হতে হবে যেন অযথা স্থানীয় চলাচলে প্রতিবন্ধকতার জন্য উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মী, ঠিকাদার এবং সরবরাহকারীর অনুপস্থিতেও প্রতিষ্ঠানটি সচল থাকে। - পরিকল্পনাটির বিষয়ে আপনার কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ঠিকাদারদের জানাতে হবে এবং দুর্যোগকালে তারা কি করবে আর কি করবে না তা তাদেরকে অবহিত করতে হবে। এক্ষেত্রে মুল বিষয়গুলোর উপরে অধিক গুরুত্বারোপ করতে হবে। - পরিকল্পনাটিতে যেন কোভিড-১৯ আক্রান্তের মানসিক স্বাস্থ্য ও সামাজর উপর কি প্রভাব পরে সে বিষয়টি আলোচিত হয় তা লক্ষ্য রাখতে হবে। কোতিড-১৯ সম্পর্কিত সঠিক তথ্য প্রাপ্তি এবং সহায়তা প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। - যেসব ক্ষুদ্র ও মাঝারী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো জরুরীক্ষেত্রে নিজস্ব কর্মীদের স্বাস্থ্য ও কল্যাণের বিষয় নিশ্চিত করতে সমর্থ নয় তাদেরকে অগ্রিম স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের সাথে যৌথ পারস্পরিক সহযোগীতার পরিকল্পনা করতে হবে; - এই পরিকল্পনা তৈরির জন্য স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সহযোগীতা প্রদানেরও প্রস্তাব দিতে পারে। মনে রাখা জরুরী: কোভিড-১৯ এর জন্য প্রস্তুত হওয়ার সময় এখনই। এক্ষেত্রে সাধারণ সতর্কতা এবং সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ কোতিড-১৯ প্রতিরোধে বড় ভুমিকা রাখতে পারে। অবিলম্বে নেয়া সঠিক পদক্ষেপ আপনার কর্মক্ষেত্রে কর্মচারীদের নিরাপদ রাখতে সহায়তা করবে।

আমি আক্রান্ত ব্যাক্তির সংস্পর্শে গিয়েছি তাই আমাকে কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে কিন্তু আমি জানিনা এক্ষেত্রে কী কী স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলব?

ল্যাবরেটরি নিশ্চিতকৃত কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে থাকলে নিজের ও পরিবারের অন্যদের নিরাপদ রাখতে সংস্পর্শে শেষ দিন থেকে ১৪ দিন পর্যন্ত কোয়ারেন্টিন থাকতে হবে। - এ সময়ে অত্যাবশকীয়ভাবে নিজ বাড়ীতে একাকী একটি আলাদা রুমে টানা ১৪ দিন থাকুন। - রুমে সংযুক্ত গোসলখানা/ টয়লেট না থাকলে যদি সাধারণ গোসলখানা/টয়লেট, যা পরিবারের অন্য সদস্যরাও ব্যবহার করেন, সে ক্ষেত্রে ব্যবহারের পূর্বে ও পরে গোসলখানা/ টয়লেট নিজেই জীবাণুনাশক দ্বারা পরিষ্কার করুন। এর ফলে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা শঙ্কা মুক্ত থাকবেন। - জানালা খোলা রেখে গোছলখানা/ টয়লেটে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন। - বাড়ীর অন্যান্য সদস্য থেকে আলাদা থাকা সম্ভব না হলে অন্যদের নিকট হতে কমপক্ষে ০১ (এক) মিটার বা ০৩ তিন ফুট) দুরত্ব বজায় রাখুন। - মাস্ক ব্যবহার করুন - নিয়মিত সঠিক বিধি মেনে হাত ধৌতকরুন - মুখ ঢেকে হাঁচি-কাশি দিন

হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা ব্যক্তির জন্য কোন বিশেষ নির্দেশনা আছে কী?

- স্থানীয় সরকারী হাসপাতাল, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর-৩৩৩, স্বাস্থ্যবাতায়ন-১৬২৬৩, ও আইইডিসিয়ারে যোগাযোগের প্রয়োজনীয় ফোন নম্বরসমূহ সংগ্রহে রাখুন। - যদি কোয়ারেন্টিনে থাকাকালীন কোন উপসর্গ দেখা দেয় (১০০ ডিগ্রী ফারেনহাইট এর বেশি/ কাশি/ সর্দি/গলাব্যথা/ শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি), তবে- - অতি দ্রত হটলাইন নম্বরে ৩৩৩ বা ১৬২৬৩ বা ১০৬৫৫ নাম্বারে অবশ্যই যোগাযোগ করুন এবং পরবর্তী করণীয় জেনে নিন। মনে রাখবেন উপযুক্ত কোন ব্যক্তির উপর কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তা অমান্য করা এবং তথ্য গোপন করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ এবং সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮ এর আওতায় কারাদন্ড ও অর্থদন্ডে দণ্ডিত হতে পারেন। তথ্যসূত্রঃ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

হোম কোয়াারেন্টিনে থাকাকালীন পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের করণীয় কী?

১। বর্তমানে সুস্থ আছেন এবং যার দীর্ঘ সময় রোগসমূহ ( যেমনঃ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ক্যান্সার, অ্যাজমা প্রভৃতি) নেই এমন একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তি পরিচর্যাকারী হিসেবে নিযুক্ত হতে পারেন। তিনি ঐ ঘরে বা পাশের ঘরে থাকবেন কিন্তু অবস্থান পরিবর্তন করবেন না ২। কোয়ারেন্টিনে আছেন এমন ব্যক্তির সাথে কোন অথিতিকে দেখা করতে দিবেন না। ৩। পরিচর্যাকারী নিম্নলিখিত যেকোন কাজ করার পর প্রতিবার সঠিক নিয়মে হাত পরিষ্কার করবেনঃ - কোয়ারেন্টিনে থাকা ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে বা তার ঘরে ঢুকলে - খাবার তৈরির আগে ও পরে, খাবার আগে, - টয়লেট ব্যবহারের পরে - গ্লাভস পরার আগে ও পরে - যখনই হাত দেখে নোংরা মনে হয় ৪। খালি হাতে ঐ ঘরের কোন কিছু স্পর্শ করবেন না, আসাবধানতাবসত করে ফেললে নিয়ম মেনে হাত ধুয়ে ফেলুন। ৫। কোয়ারেন্টিনে থাকা ব্যক্তির ব্যবহৃত বা তার পরিচর্যায় ব্যবহৃত মাস্ক, টিস্যু, ইত্যাদি অথবা অন্য আবর্জনা ঐ রুমে রাখা ঢাকনাযুক্ত পাত্রে রাখুন। এ সকল আবর্জনা খোলা জায়গায় না ফেলে পুড়িয়ে ফেলুন। ৬। ঘরের মেঝে, আসবাবপাত্রের সকল পৃষ্ঠতল, টয়লেট ও গোসলখানা প্রতিদিন অন্তত একবার পরিষ্কার করুন। পরিষ্কারের জন্য ১ লিটার পানির মধ্যে ২০ গ্রাম (২ টেবিল চামচ পরিমাণ) ব্লিচিং পাউডার মিশিয়ে দ্রবণ তৈরী করুন ও এ দ্রবণ দিয়ে উক্ত সকল স্থানে ভালোভাবে মুছে ফেলুন। তৈরিকৃত দ্রবণ সর্বোচ্চ ২৪ ঘল্টা পর্যন্ত ব্যবহার করা যাবে। ৭। কোয়ারেন্তিনে থাকা ব্যক্তিকে নিজের কাপড়, বিছানার ছাদর, তোয়ালে ইত্যাদি ব্যবহৃত কাপড় গুড়া সাবান বা কাপড় কাঁচা সাবান ও পানি দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করতে বলুন এবং পরে ভালোভাবে শুকিয়ে ফেলুন। ৮। নোংরা কাপড় একটি লন্ড্রি ব্যাগে আলাদা রাখুন। মলমূত্র বা নোংরা লাগা কাপড় ঝাকাবেন না এবং নিজের শরীর বা কাপড়ে যেন না লাগে খেয়াল রাখবেন। ৯। বয়স্ক ও শিশুদের ব্যপারে বিশেষ শতর্কতা অবলম্বন করুন।

কোয়ারেন্টিনে নিজেকে কিভাবে উৎফুল্ল/সতেজ রাখতে/মানিয়ে নিতে পারি?

আপনি কোয়ারেন্টিনে থাকাকালীন যা করতে পারেন- - কোভিড-১৯ সম্পর্কে জানতে পারেন। WHO, CDC, IEDCR এর ওয়েবসাইটে এ সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য পেতে পারেন। - পরিবার ও বন্ধু-বান্ধবের সাথে ফোন/ মোবাইল/ ইন্টারনেটের সাহায্যে যোগাযোগ রাখুন। - শিশুকে তার জন্য প্রযোজ্যভাবে বোঝান। তাদেরকে পর্যাপ্ত খেলার সামগ্রী দিন এবং খেলনাগুলো খেলার পরে জীবাণুমুক্ত করুন (জীবাণুনাশক বা ভালোভাবে সাবান-পানি দিয়ে)। - আপনার দৈনন্দিন রুটিন, যেমন- খাওয়া, হালকা ব্যায়াম ইত্যাদি মেনে চলুন। - সম্ভব হলে বাসা থেকে অফিসের কাজ করতে থাকুন। - বইপড়া, গান শোনা, সিনেমা দেখা অথবা উপর্যুক্ত নিয়মগুলোর সাথে পরিপন্থী নয় এমন যে কোন বিনোদনমূলক কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত করুন বা ব্যস্ত রাখুন।

কোভিড-১৯ একজন গর্ভবতী মা এবং তার পরিবারের পক্ষে কী কী করণীয়?

 কোভিড-১৯ সংক্রমণে অনুমিত বা সনাক্তকৃত হোক বা না হোক সকল গর্ভবতী নারী এবং নবজাতক ও ছোট শিশু রয়েছে এমন মায়েদেরকে বুকের দুধ খাওয়ানো বিষয়ক পরামর্শ সেবা, মৌলিক মনোসামাজিক সহায়তা এবং বুকের দুধ খাওয়ানোর বিষয়ক ব্যবহারিক সহায়তা দিতে হবে।  গর্ভবতী মায়ের করোনা ভাইরাসের উপসর্গ দেখা দিলে শিশুর জন্মপূর্ববর্তী সময়ে হাসপাতালে না যাওয়াই শ্রেয়, যতক্ষণ না পর্যন। আইসোলেশন কাল শেষ হয়।  যদি গর্ভবতী মায়ের এপয়েন্টমেন্ট বাতিল হয়ে যায় তবে প্রসূতি ইউনিটের সাথে কথা বলে পুনরায় এপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিত করতে হবে।  বাচ্চার করোনা ভাইরাসে আক্রানÍ হওয়ার সন্দেহ থাকলে তাকে সারাক্ষণ পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে।  করোনা ভাইরাস সন্দেহভাজন গর্ভবতী মাকে অবশ্যই বাসায় ডেলিভারি থেকে বিরত রাখতে হবে।  গর্ভবতী মা আইসোলেশনে থাকা কালে যদি প্রসব বেদনা উঠে তবে প্রসূতি ইউনিটে দ্রুত যোগাযোগ করুন । প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন (কল সেন্টার): ১৬২৬৩ এবং ৩৩৩ IEDCR Hotline: 01937000011, 01937110011, 01927711784, 01927711785 করোনা ভাইরাস ট্রিটমেন্ট সেন্টার * মুগদা জেনারেল হাসপাতাল * কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল * মহানগর হাসপাতাল * কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল। সূত্রঃ https://dghs.gov.bd/images/docs/Notice/22_03_2020_SOP_Pregnancy%20%20%20Family%20in%20COVID-19.pdf