করোনা ভাইরাস ও কোভিড-১৯ কি?

করোনা ভাইরাস কি ? করোনা ভাইরাস অনেকগুলি ভাইরাসের একটি বড় পরিবার যা জীব জন্তু বা মানুষের অসুখের কারণ হতে পারে। বেশ কয়েকটি করোনভাইরাস মিলে মানুষের মধ্যে সাধারণ ঠাণ্ডা লাগা থেকে শুরু করে মিডিল ইষ্ট রেসপিরেটরি সিন্ড্রোম (এমইআরএস) এবং সিভিয়ার একিউট রেস্পিরেটরি সিন্ড্রোম (এসএআরএস) এর মতো মারাত্মক রোগ সৃষ্টি করতে পারে বলে জানা যায়। কোভিড -১৯ কি ? কোভিড -১৯ হল নতুন খুঁজে পাওয়া করোনাভাইরাস থেকে ছড়ানো একটি সংক্রামক রোগ। এই নতুন ভাইরাস এবং রোগটি ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে মহামারি হওয়ার আগে বিশ্বের কাছে অজানা ছিল।

কোভিড -১৯ এর লক্ষণগুলি কি?

কোভিড -১৯ এর সাধারণ লক্ষণগুলি হ'ল: - জ্বর - ক্লান্তি - শুকনো কাশি ইত্যাদি । -অনেকের আবার ব্যথা বেদনা, নাক বন্ধ, নাক দিয়ে পানি পরা , গলা ব্যথা বা ডায়রিয়া হতে পারে। এই লক্ষণগুলি শুরুতে কম থাকে এবং ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে । আক্রান্ত অনেকের মধ্যে মধ্যে এই রোগ এর কোনও লক্ষণ দেখা যায়না এবং তাঁরা অসুস্থও বোধ করেন না। বেশিরভাগ লোক (প্রায় ৮০ %) বিশেষ চিকিৎসার প্রয়োজন ছাড়াই সুস্থ হয়ে উঠেন । কোভিড -১৯ হওয়া প্রত্যেক ৬ জনের মধ্যে ১ জন ভীষণভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাঁদের শ্বাস নিতে অসুবিধা হয়। বয়স্ক ব্যক্তি এবং যাঁদের উচ্চ রক্ত চাপ, হার্টের সমস্যা বা ডায়াবেটিসের মতো অসুস্থতা রয়েছে , তাঁদের জন্য ঝুঁকিটা বেশি এবং তাঁদের ভীষণভাবে অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে । তাই এসব মানুষের দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া উচিত। সরকারি হেল্পলাইন ৩৩৩,১৬২৬৩, ১০৬৫৫ নম্বরে ফোন করে চিকিৎসা ও পরামর্শ নেয়া যাবে

কোভিড -১৯ কীভাবে ছড়ায়?

সাধারণত যেভাবে ছড়ায়ঃ ১। কোভিড -১৯ এ আক্রান্ত রোগী থেকে এই রোগ অন্য মানুষে ছড়ায়; ২। কোভিড -১৯ এ আক্রান্ত মানুষের নাক ও মুখ থেকে বেরিয়ে আসা হাঁচি কাশির মাধ্যমে ছড়িয়ে পরা ড্রপলেট (কাশি বা নিঃশ্বাস থেকে যে পানির ফোঁটা তৈরি হয় ) এর দ্বারা এই রোগ ছড়ায়; ৩। এই ড্রপলেট/পানির ফোঁটাগুলি মানুষের চারপাশের জিনিস ও জায়গার উপর লেগে থাকে; ৪। কেউ যদি এই জিনিস বা জায়গাগুলি স্পর্শ করে এবং তারপরে নিজের চোখ, নাক বা মুখে হাত দেয় তবে এই রোগে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি বেড়ে যাবে; কোভিড -১৯ আক্রান্ত লোকের হাঁচি কাশি বা নিঃশ্বাস থেকে বের হওয়া ড্রপলেট/পানির ফোঁটা যদি অন্য কারো শরীরে ঢোকে, তাহলে কোভিড -১৯ ছড়াতে পারে। সেইজন্য অসুস্থ লোকের থেকে ৩ ফুট (১ মিটারের ) বেশি দূরে থাকা অত্যন্ত জরুরি কোভিড -১৯ এর ভাইরাসটি কি বাতাসের মাধ্যমে ছড়াতে পারে? এ পর্যন্ত হওয়া গবেষণা থেকে জানা যায় কোভিড -১৯ এর ভাইরাসটি বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায় না। আক্রান্ত লোকের হাঁচি কাশি বা নিঃশ্বাস থেকে বের হওয়া ড্রপলেট/পানির ফোঁটা যদি নিঃশ্বাসের মাধ্যমে অন্য কারো শরীরে ঢোকে তাহলে কোভিড -১৯ ছড়াতে পারে। কোভিড -১৯ এমন কোনও ব্যক্তির থেকে ছড়াতে পারে যার কোনো লক্ষণ নেই ? কোভিড -১৯ এ আক্রান্ত অনেক লোক অসুস্থ বোধ করে না। রোগ এর প্রথম দিকে এমন হতে পারে l তাই, যার কেবল অল্প কাশি আছে এবং খুব অসুস্থ বোধ করছেন না, এমন কারোর কাছ থেকেও কোভিড -১৯ এ আক্রান্ত হওয়া সম্ভব l

ভাইরাসটি বিভিন্ন জিনিস বা জায়গার ওপরে কতক্ষন থাকতে পারে ?

করোনাভাইরাসের বিভিন্ন জিনিসের ওপরে থাকার ব্যপারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হচ্ছে যে সাধারন জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করলে, এগুলোকে খুব সহজেই নষ্ট করা যায়। গবেষণায় জানা গেছে যে এই ভাইরাস স্টিল অথবা প্লাস্টিকের ওপর ৭২ ঘন্টা পর্যন্ত, পেতলের ওপর ৪ ঘন্টা পর্যন্ত এবং কার্ড বোর্ডের ওপর, ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। মনে করে, বারে বারে অ্যালকোহল যুক্ত হ্যান্ড-স্যানিটাইজার দিয়ে অথবা সাবান পানি দিয়ে অবশ্যই হাত ধোবেন l নিজের চোখ, মুখ এবং নাকে হাত দেবেন না ।

কোয়ারেন্টাইন ও আইসোলেসন কি?

কোয়ারেন্টাইনঃ কোয়ারেন্টাইনের মাধ্যমে সেই সকল সুস্থ ব্যক্তিদের (যারা কোন সংক্রামক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এসেছে) অন্য সুস্থ ব্যক্তি থেকে আলাদা রাখা হয়, তাদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করা হয় এবং তারা এ সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয় কিনা তা পর্যবেক্ষণ করা হয়। আইসোলেশনঃ আইসোলেশন এর মাধ্যমে সংক্রামক রোগে আক্রান্ত অসুস্থ ব্যক্তিদের অন্য সুস্থ ব্যক্তি হতে আলাদা রাখা হয়। পার্থক্যঃ  কোয়ারেন্টাইনের মাধ্যমে সংক্রামক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এসেছে এমন সুস্থ ব্যক্তিদের আলাদা রাখা হয় ও তাদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করা হয় অপরপক্ষে আইসোলেশন এর মাধ্যমে সংক্রামক রোগে আক্রান্ত অসুস্থ ব্যক্তিদের আলাদা রাখা হয়।  কোয়ারেন্টাইনের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণাধীন সুস্থ ব্যক্তিবর্গ এ নির্দিষ্ট সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয় কিনা তা দেখা হয় আর আইসোলেশন এর মাধ্যমে অসুস্থ ব্যক্তি হতে যেন সুস্থ ব্যক্তিরা আক্রান্ত না হয় সে জন্য অসুস্থ ব্যক্তিদের অন্য সুস্থ ব্যক্তি হতে আলাদা রাখা হয়।

করোনা ভাাইরাস সংক্রান্ত ভুল ধারণাগুলো কী কী?

করোনা ভাইরাস নিয়ে অনেক ভুল ধারণা প্রচলিত আছে l আসুন সঠিক তথ্যগুলো জেনে নেই l - যে কোনো বয়সী মানুষের করোনাভাইরাস সংক্রমণ/ কোভিড-১৯ রোগ হতে পারে। তবে বয়স্ক মানুষ এবং যাঁদের হাঁপানি, ডায়াবেটিস, হৃদরোগের সমস্যা আছে তাঁদের এই ভাইরাসে মারাত্মকভাবে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি বেশি বলে মনে করা হচ্ছে - ঠাণ্ডা বা গরম আবহাওয়া, আর্দ্র জলবায়ু ইত্যাদির সাথে এই ভাইরাস এর কমা-বাড়ার কোনো সম্পর্ক নাই - করোনাভাইরাস মশার কামড়ের মাধ্যমে ছড়াতে পারে না - পোষা প্রাণী, যেমন কুকুর বা বিড়াল করোনাভাইরাস ছড়িয়েছে এমন তথ্য বা প্রমান নেই - নিয়মিত গরম পানিতে গোসল করলে করোনাভাইরাস হবে না এটা সঠিক নয় - হ্যান্ড ড্রায়ার দিয়ে করোনাভাইরাস মারা যায় না - জীবাণু মুক্ত করার জন্য অতি বেগুনি (আল্ট্রাভায়োলেট) রশ্মি ব্যবহার করা উচিত নয়।এতে চামড়া জ্বালা করতে পারে - থার্মাল স্ক্যানারগুলি শুধু জ্বর পরীক্ষার জন্য, কোভিড-১৯পরীক্ষার জন্য নয় - শরীরে থাকা ভাইরাস মারার জন্য শরীরে এলকোহল বা ক্লোরিন স্প্রে করলে লাভ নাই - নিউমোনিয়ার বিরুদ্ধে নিউমোকক্কাল ভ্যাকসিন এবং হিমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা টাইপ বি (এইচ আই বি) ভ্যাকসিন কাজ করলেও, করোনাভাইরাস এর বিরুদ্ধে কোনো ভ্যাকসিন কাজ করে না - রোজ স্যালাইন দিয়ে নাক ধুলে করোনো ভাইরাস ছড়াবে না - এ তথ্যের কোনো কোনো ভিত্তি নেই - রসুন স্বাস্থ্যকর, তবে রসুন খেলে এই ভাইরাস প্রতিরোধ করা যাবে এর কোনো প্রমান নেই l উল্লিখিত বিষয়ে বিস্তারিত জানতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওয়েবসাইট দেখা যেতে পারে: https://www.who.int/emergencies/diseases/novel-coronavirus-2019/advice-for-public/myth-busters