করোনা, নমুনা পরীক্ষা এবং সরকারের লুকোচুরি

তারিখ : ২৪-০৪-২০২০ ০৬:০০

১/ করোনা মহামারী-ই মিথ্যা অহংকারের উপর ভর করে উড়তে থাকা বর্তমান ফ্যাসিষ্ট সরকারকে মাটিতে নামিয়ে এনেছে। এতোদিন তারা চারিদিকে যে স্বপ্ন এবং গল্পের ফানুস রচনা করেছিলো, করোনাভাইরাস সেই ফানুস গুলিকে এক ফুঁৎকারে নিভিয়ে দিয়েছে। তাদের প্রতিদিন, প্রতিমাস, এমনকি বছর ব্যাপী উৎসব পালনকে থামিয়ে দিয়েছে করোনা। মানুষের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে চিকিৎসা ব্যবস্থার দৈন্যদশা এবং ফ্যাসিষ্টের উন্নয়নের গল্পের অসাড়তা।
২/ বৈশ্বিক সংক্রমণের পরে ৩’মাস প্রস্তুতি গ্রহণের সুযোগ পেয়েও ক্ষমতাসীনদের নির্লিপ্ততাই এদেশে করোনাভাইরাসের বিস্তার লাভ করার কারণ। বিস্তারের পর পর নমুনা পরীক্ষায় গাফিলতি, প্রাইভেট ল্যাবরেটরি গুলিকে করোনার নমুনা পরীক্ষার সুযোগ না দেয়া, রাজনৈতিক কারণে করোনা পরীক্ষার কীট আবিষ্কারক গণস্বাস্থ্যকে অসহযোগিতা এই ভাইরাস বিস্তারের অন্যতম কারণ। এখনো নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে খুব সীমিত আকারে। অথচ করোনা বিস্তৃতির পথ বন্ধ করার অন্যতম কাজ হচ্ছে নমুনা পরীক্ষা বাড়ানো। এই নমুনা পরীক্ষার ক্ষেত্রে সার্কভুক্ত প্রতিটি দেশের তুলনায় পিছিয়ে বাংলাদেশ। এমনকি আফ্রিকার উগান্ডা এবং যুদ্ধ বিধ্বস্ত ফিলিস্তিনে নমুনা পরীক্ষা আমাদের চেয়ে বেশী হচ্ছে। সোমালিয়া, ইথিওপিয়া, রোয়ান্ডার পর্যায়ে আছি আমরা নমুনা পরীক্ষার ক্ষেত্রে। তাই পরীক্ষা ছাড়াই করোনাভাইরাসে আক্রান্তের উপসর্গ নিয়ে মানুষের মৃত্যুর খবর পাচ্ছি আমরা গত তিন মাস ধরেই। ঠিক মতো হিসেব করলে ঐ মৃত্যুই হাজার ছাড়িয়ে যাবে। সরকারের পরীক্ষা কম করা, প্রাইভেট খাতে নমুনা পরীক্ষার অনুমতি না দেয়ার একমাত্র কারণ হতে পারে করোনা আক্রান্ত রোগী এবং মৃত্যু কম দেখানো। অন্য সবকিছুর মতো মহামারীর ক্ষেত্রেও সরকার জনগণের সাথে লুকোচুরি খেলছে, মিথ্যা পরিসংখ্যান দিয়ে যাচ্ছে।
৩/ যে সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়, তাদের জন্য জনগণের জীবন নিয়েও ছিনিমিনি খেলা অসম্ভব কিছুই নয়। করোনাকালেও ফ্যাসিষ্ট সরকার তাই করছে। আমাদের সচেতনতা এবং প্রতিবাদই ফ্যাসিষ্ট সরকারের লাগামহীন কুটিলতা, অমানবিকতা, পাশবিকতা এবং করোনা মহামারী হতে রক্ষা করতে পারে; অন্যথায় নয়।