করোনা সংক্রান্ত তথ্যতারিখ : ২৪-০৪-২০২০ ০৬:০০

করোনা ভাইরাসের আক্রমণে বিশ্বের নতুন মৃত্যুপুরী হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশে অগনিত মানুষ মারা যাবে।
বিশ্বের ১ নম্বর শক্তিধর দেশ যুক্তরাষ্ট্র আজ ‘চোখে না দেখা’ সামান্য এক ভাইরাসের কাছে আজ অসহায়।
তারা কিছুতেই মৃত্যুর সংখ্যায় লাগাম টানতে পারছে না।
মৃত্যুসংখ্যা ১৮’শ থেকে ২৬’শ, সেখান থেকে ৩ হাজারে ওঠানামা করছে, মোট মিলিয়ে অর্ধলক্ষ মৃত্যু এবং ৮ লাখ ৮০ হাজার আক্রান্ত।
যুক্তরাজ্যে ৬’শ থেকে লাফ দিয়ে ৯’শতে উঠেছে।
বাংলাদেশের কি অবস্থা?
এখানে এক ইডিয়েট স্বাস্থ্যমন্ত্রী এখনও সন্তোষ প্রকাশ করছেন, তার হিসাবে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা নাকি একই দিন পর্যন্ত ইতালির চেয়ে কম।
এই গাধার বাচ্চা যদি রোগীর সংখ্যা কম দেখায়, তবে কম তো হবেই।
হারামখোর, ইতর প্রকৃতির কতো গুলো লোক দেশের মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে।
এরা কি জানে না যে ওদের আমলে নেয়া ইতালিতে মৃত্যুর সংখ্যা অলরেডি ২৫ হাজার ছাড়িয়েছে?
গত জানুয়ারী থেকে দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে আমরা আগাম সতর্ক করে আসছি।
এয়ারপোর্ট এবং বর্ডার লক করতে সেনা নামাতে বলেছিলাম।
তখন ঐ কাজটি করলে আজকে দেশ থাকতো করোনা মুক্ত, বিশ্বে রোল মডেল হতো বাংলাদেশ। কিন্তু ওনারা শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী নিয়ে মহা ধুমধামে মত্ত রইলো, আর এই ফাঁকে দেশটাকে করোনা ভাইরাসের সংক্রমনে ডুবিয়ে দিলো।
মুখে ওনারা যতো চাপাই মারুন না কেনো, করোনা নিয়ে তাদের কোনো প্রস্তুতি ছিলোনা।
তারা এটা নিয়ে ভাবেনি।
এর প্রমান মিলে ১৬ মার্চ ‘২০ মুজিববর্ষ উপলক্ষে ১ বছরব্যাপি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মসূচি ঘোষণা করলেন, তার মধ্যে অন্য সবকিছু থাকলেও কভিড-১৯ ইস্যুটি ছিলো না।
এই হচ্ছে উন্মাদ সরকারের করোনা মোকাবেলার প্রস্তুতির নমুনা।
মার্চ থেকে দেশের নানান স্থানে করোনা রোগী ধরা পড়তে লাগলো, মৃত্যুর খবরও আসছিলো, লাশের ছবিও এসেছে মিডিয়ায়, সেগুলো নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকার ‘গুজব, গুজব’ খেলা শুরু করলো, জনগনের চোখে ধুলো দিতে চেষ্টা করলো, কিন্তু এরই ফাঁকে ফাঁকে দেশের গোরোস্তানগুলিতে লাশ নামার খবর এবং ছবি প্রকাশ পাচ্ছিলো।
এতো ভাবে ধামাচাপার পরেও মহামারীর চিত্র জনমনে প্রকট হয়ে উঠছে।
এর সাথে করোনার রোগীদের চিকিৎসা নিয়ে ভয়াবহ অব্যবস্থাপনার নানা চিত্রও কিছু কিছু করে আসছে এমন যে, রোগীরা দ্বারে দ্বারে ঘুরেও করোনা টেস্ট করতে পারছে না, যেখানে যেখানে প্রভাবশালী লোকেরাই ৪/৫টি হাসপাতালে ঘুরে ঘুরে ভর্তি হতে গলদঘর্ম হয়ে ওঠে, সেখানে সাধারণ রোগীরা রাস্তায় বা বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছে।
মৃত্যু এবং রোগীর সংখ্যা প্রকাশে নিয়ন্ত্রণ আরোপের জন্য সরকার খুব কৌশলে একটি ল্যাবরেটরির পরিচালকের মুখ দিয়ে বানোয়াট সংখ্যা প্রকাশ করছে, যখন সরকারী দলের লোকেরাই ধারণা করছে প্রকৃত সংখ্যা হবে তারও ২৫ গুণ বেশী।
একটি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, করোনা ভাইরাস পরীক্ষা করার জন্য ২১ এপ্রিল পর্যন্ত আইইডিসিআরে ৪২ লাখ ফোন কল এসেছে, কিন্তু তারা পরীক্ষা করেছে মাত্র ৩০ হাজার।
এই ৪২ লাখ লোকের টেস্ট করলে কয়েক লাখ লোকের করোনা পজিটিভ ধরা পড়তো।
কিন্তু সরকার টেস্ট না করার বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করেছে।
কেবল নারায়ণগঞ্জের একটি হিসাবে দেখা গেছে, ১৫৬৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে, এর মধ্যে ৫৭৭ জনের ফলাফলে পজিটিভ পাওয়া গেছে এবং তাদের মধ্যে ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সাংঘাতিক পরিসংখ্যান অথচ সরকারের পলিসি হলো ‘নো টেস্ট, নো করোনা’।
ফাজলামির একটা সীমা থাকা দরকার।
গতকাল অবধি আইডিসিআরের রিপোর্ট বলছে, বাংলাদেশের ৬৩ জেলায় ৯০ভাগ এলাকা করোনা কবলিত।
হাজার খানেক স্বাস্থ্যকর্মী, কয়েক হাজার পুলিশ, এবং শত শত প্রশাসনিক কর্মকর্তারা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত।
হসপিটাল গুলো ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
এমন মহামারী পরিস্থিতির ভেতরেও সরকারের চাপাবাজি চলছেই।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে বারংবার হুশিয়ারী দিয়ে বলছে, করোনা ভাইরাসের থাবা কমেনি, বরং দ্বিতীয় আঘাতটি হবে অপ্রতিরোধ্য।
"কোনও ভুল করা চলবে না- আমাদের দীর্ঘ পথ যেতে হবে, এই ভাইরাস আমাদের সঙ্গে রয়ে যাবে আরও দীর্ঘ সময়,” এ কথা বলেছেন- ডব্লিউএইচও’র মহাপরিচালক ডঃ টেড্রস আধানম গেব্রিয়াসাস।
এরই মাঝখানে আবির্ভাব হয়েছে গ্যাস্ট্রো-করোনা ভাইরাসের, যা আক্রমণ করছে পেটে।
পেটে থেকে থেকে মোচড় দেওয়া, এমনকি ডায়েরিয়াও গ্যাস্ট্রো-করোনা ভাইরাসের অন্যতম লক্ষণ।
কম লক্ষণযুক্ত পেটে উদ্ভূত এই গ্যাস্ট্রো-করোনা ভাইরাস এখন চিকিত্সকদের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাধারণ করোনা ভাইরাসের উপসর্গ গুলোর সঙ্গে মিল না থাকাতেই সমস্যা বেড়েছে।
অনেক সময় চিকিত্সকেরা বুঝে উঠতে পারছেন না।
বাংলাদেশে কি ঘটতে যাচ্ছে, তা অনুমান করতে এনিয়ে ৩টি আন্তর্জাতিক পূর্বাভাস রিপোর্টের কথা স্মরণ করা যাক।
প্রথমটি লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের একটি রিপোর্ট।
দ্বিতীয়টি ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ প্রয়াস।
আর শেষেরটি জাতিসংঘ এবং বাংলাদেশ সরকারের যৌথ চেষ্টায় কার্যপত্র।
প্রথমেই আমরা ফিরে যাবো ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের রিপোর্টের দিকে।
ঐ রিপোর্টে বলা হয়, কোভিড-১৯ এর সর্বোচ্চ সংখ্যক লক্ষণ সমেত রোগী দেখা যেতে পারে ১১ মে তারিখে (১ কোটি ৪১ লাখেরও বেশি), ১৪ মে অবধি ১ লাখ ১১ হাজার রোগীকে আইসিইউতে ভর্তি করতে হতে পারে, ১৬ মে পর্যন্ত বাংলাদেশে ৪ লাখ ৮৪ হাজার রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হতে পারে।
২৬ মে একদিনেই মোট ৮০ হাজার ৭৯৬ জন মারা যেতে পারে"।
অন্যদিকে, জাতিসংঘের গোপন নথিটি প্রস্তুত করা হয়েছিল বিশ্বব্যাপী কোভিড-১৯ মোকাবেলায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারের উদ্যোগকে সহায়তা করতে বিভিন্ন সংস্থাকে দিকনির্দেশনা দিতে।
ঐ প্রতিবেদন মতে, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে করোনা ভাইরাসে বাংলাদেশে ৫ লাখ থেকে ২০ লাখ পর্যন্ত মানুষ মারা যেতে পারে।
অন্যান্য দেশের সাথে তুলনা করলে এই সংখ্যাটি বিস্ময়কর নয়।
জাতিসংঘের রিপোর্ট প্রণয়নের সময় যে সকল বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে তার মধ্যে আছে, স্বাস্থ্যসেবা খাতের অপর্যাপ্ততা, পিপিইর মতো নিরাপত্তা সামগ্রীর স্বল্পতায় সেবাদান ঝুকিপূর্ণ, কোভিড-১৯ পরীক্ষার স্বল্পতা, আনুমনিক ৯০ লাখ মানুষ ঢাকা ত্যাগ করে যা ঢাকার চাপ কমালেও সারা দেশে সংক্রমন ছড়িয়ে দেয়া হয়, তাছাড়া ধরে নেয়া হয়েছিলো সামাজিক দূরত্ব মেনে চলায় সংক্রমন হবে সর্বনিম্ন ইত্যাদি।
তবে বাস্তব ক্ষেত্রে আরও কিছু ঘটনা ঘটে যা কোভিড-১৯ সংক্রমনকে পূর্বাভাসের চেয়েও অনেকগুণ বেশি আশংকাগ্রস্থ করে তুলেছেঃ
১) ২৫ মার্চ ঢাকা থেকে মফস্বলে গিয়ে আবার ৪ এপ্রিল আনুমানিক ৫০ লক্ষ গার্মেন্ট কর্মী গাদাগাদি করে রাজধানীতে ফিরে আসে, যাতে সংক্রমনের ঝুকি প্রচন্ড রকম;
২) বিভিন্ন স্থানে হাজার হাজার গার্মেন্ট কর্মী সমবেত হয়ে প্রতিবাদ বিক্ষোভ করে;
৩) ত্রাণ বিতরণের নামে হাজার হাজার মানুষ সমবেত করা হয়;
৪) নারায়ণগঞ্জ এপি সেন্টার থেকে হাজার হাজার মানুষ করোনা সংক্রমন নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে যাওয়া।
নারায়ণগঞ্জ থেকে পালিয়ে যাওয়া অনেকেই মারা যাচ্ছে।
রাজধানী ছাড়াও নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর, কিশোরগঞ্জ নতুন নতুন সংক্রমন কেন্দ্রে পরিণত হওয়া;
৫) লক ডাউন উপেক্ষা করে হাট বাজারে হাজার হাজার মানুষের একত্র হওয়া।
৬) সব মিলিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্বীকার করেছেন, লকডাউন ব্যর্থ হয়েছে, সামাজিক দুরত্ব রক্ষা হয়নি।
অতএব, যা হবার তাই হতে যাচ্ছে, জাতিসংঘ রিপোর্টের চেয়েও ভয়াবহতার দিকে যাচ্ছে সবকিছু, যা কল্পনা করাও অসম্ভব।