ইকোলজিক্যাল ব্যালেন্সিংয়ের জন্যই সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং

সূত্র : দৈনিক জনকণ্ঠ

তারিখ : ২৬-০৪-২০২০ ০৬:০০

ভয়াবহ একটি সংক্রামক ভাইরাস করোনাভাইরাস, যা কিনা কোভিড-১৯ নামের পোশাকে ঘুরে বেড়াচ্ছে বিশ্বময়। আর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই ভাইরাসের ভয়াবহতা উপলব্ধি করেই কোভিড-১৯ কে বিশ্ব মহামারী ঘোষণা করেছে। আমাদেরও তাই হয়ত প্রকৃতির সেই ব্যালেন্সিংয়ের অংশীদার করতে হচ্ছে সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং। রাজার মুকুটটি কার মাথায় থাকবে এ নিয়ে যখন গোটা বিশ্ব অন্যায়, অবিচার, দূষণসহ নানা মাত্রায় অসহনীয় দাপটযজ্ঞ চালাচ্ছে হরদম, ঠিক তখনই পৃথিবীতে প্রকৃতির দাপটের মুকুট হয়ে এসেছে করোনা। ল্যাটিন শব্দ করোনা থেকে করোনাভাইরাস নামটির উৎপত্তি, যার অর্থ মুকুট। নির্মম হলেও সত্যি, কেউ আর আজ মাথায় মুকুট নিয়ে রাজাধিরাজ হতে চাইছে না, বরং সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রকৃতির ক্রোধ সংবরণ করতে চাইছে। অথচ যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে শীতল গালিচায় চেপে সমগ্র বিশ্ব জয় করে দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলেছে করোনাভাইরাস। করোনাভাইরাস রাইবোভিরিয়া পর্বের নিদুভাইরাস বর্গের করোনাভিরিডি গোত্রের অর্থো করোনাভিরিন্যা উপ-গোত্রের সদস্য। যার নিউক্লিওক্যাপসিড সর্পিলাকৃতির এবং এর জিনোমের আকার সাধারণত ২৭ থেকে ৩৪ কিলো বেস-পেয়ার (শরষড় নধংব-ঢ়ধরৎ) এর মধ্যে হয়। অর্থাৎ, আরএনএ ভাইরাসের মধ্যে এটি সর্ববৃহৎ। এ ভাইরাসটি ১৯৬০-এর দশকে প্রথম আবিষ্কৃত হয়। মুরগির মধ্যে সংক্রামক ব্রঙ্কাইটিস ভাইরাস হিসেবে এটি প্রথম দেখা যায়।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে টর্নেডো, হারিকেন, সুনামি, ভূমিকম্পসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানুষকে করেছে অসহায়। আদিমকাল থেকেই মানুষ প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকলেও নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি কখনও। বড়জোর শাক দিয়ে মাছ ঢাকার মতো কিছুদিন ঠেকিয়ে রেখেছে মাত্র। যেমন-প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ভয়ঙ্কর পরিণতি সামলে ওঠার মাঝেই বিশ্বজুড়ে মহামারী হয়ে দাঁড়ায় স্প্যানিশ ফ্লু। মৃত্যু হয় প্রায় দশ কোটির কাছাকাছি মানুষের। সেই ধাক্কা সামলাতে হিমশিম খেতে হয়েছিল বিশ্ববাসীকে। ১৯১৮ সাল থেকে ১৯১৯ সালের মধ্যে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস অর্থোমিক্সোভিরিডি পরিবারের একটি প্রাণঘাতী ভাইরাল স্ট্রেন দাপট দেখিয়েছিল গোটা বিশ্বে। সেই সংক্রমণ থামলেও কিন্তু শেষ হয়নি। ১৯৫৭-৫৮ সালে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস (টাইপ-এ, এইচ ২ এন ২)-এর প্রভাবে এশিয়াতে ১০-১৫ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। সেই মহামারীর নাম ছিল ‘এশীয় ফ্লু’। সুনামির সময়েও বড় বিপর্যয় হয়েছিল পৃথিবীতে। তার প্রভাব রেখে গিয়েছিল বিশ্বে। কোথাও একটা ভিত নড়বড়ে হয়ে গিয়েছিল। সেই সুনামি কিংবা ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের থেকেও ভয়ঙ্কও হয়ে উঠছে কোভিড-১৯। বিজ্ঞানী ও জনস্বাস্থ্যবিদরা এখনও করোনাভাইরাসের সংক্রমণের উৎসের কিংবা এর টিকা অর্থাৎ প্রতিষেধক তৈরির কোন কূল-কিনারা করতে পারছেন না। অন্যদিকে আমরা জানি ১৯২০ সালে স্কটল্যান্ডের উইলিয়াম ওগিলভিকারম্যাক ও আন্ডারসন গ্রেম্যাককেন্ড্রিক মহামারীর চরিত্র বোঝাতে একটা মডেল তৈরি করেছিলেন। তাঁরা বলেছিলেন, ‘যে কোন মারণ রোগজনিত মহামারীকে থামানো গেলেও শেষ করে ফেলা যায় না। কারণ মানুষের শরীরের সঙ্গে মানিয়ে নিতে শিখে যায় সেই জীবাণু। হয়ত তার প্রভাব কমে, কিন্তু পুরোপুরি শেষ হয়ে যায় না। এর জন্য অনেকাংশেই দায়ী মানুষ। তাদের অসচেতনতা এবং অসংযমী জীবনযাত্রা। কিছু বছরের জন্য সেই রোগের প্রভাব থেমে গেলেও একটা সময় সে ফের মাথাচাড়া দেয়। তখন তার প্রভাব হয় আরও বেশি প্রাণঘাতী। কারণ তত দিনে বিবর্তনের সেই চরম পর্যায়ে চলে যায় জীবাণুরা।’ জেনেভা ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট অব গ্লোবাল হেলথ বিজ্ঞানী ফ্লহল্ট বলছেন, ‘রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সকলের সমান হয় না। যাকে হার্ড ইমিউনিটি বলে অর্থাৎ এক শ্রেণীর লোক ঠিক সময় ভ্যাকসিন বা ড্রাগ নিয়ে নিজেদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে ফেলেন। কিন্তু সেই সংখ্যা সীমিত। সংক্রমণ তখনই মহামারীর চেহারা নেয় যখন একজন আক্রান্তের থেকে আরও অনেকে সংক্রামিত হন। একজন রোগীর থেকে যদি পাঁচজন সুস্থ মানুষ আক্রান্ত হন তাহলে সেই অনুপাত বাড়তে বাড়তে বিশাল চেহারা নেয়। চীনের ক্ষেত্রে এমনটাই হয়েছে। সেখানকার বিপুল জনসংখ্যা, তাদের খাবারের ধরন, একগুয়ে মনোভাব এবং সংক্রমণ চেপে রাখার মানসিকতার কারণেই এখন বিশ্বে মহামারী হয়ে গেছে কোভিড-১৯। সংক্রমণ তখনই কমবে যখন সঠিক কোয়ারেন্টাইন চলবে, সংক্রমণ রোখার ভ্যাকসিন আসবে ও সামাজিক মেলামেশায় লাগাম পরানো যাবে। একজন আক্রান্তের থেকে যদি মাত্র একজনই সংক্রামিত হন, তাহলে বিপুল হারে সংক্রমণ থামানো সম্ভব হবে।’ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) এমার্জেন্সি এক্সপার্ট মাইক রায়ানের মতে, ‘লকডাউন ভাল কিন্তু কার্যকরী নয়। গণজমায়েত বন্ধ করে পরস্পরকে দূরে রেখে সংক্রমণ ঠেকানো সবসময় সম্ভব হয় না। কারণ এমনও হতে পারে ভাইরাসের উপসর্গ কারও মধ্যে ধরা পড়েনি অর্থাৎ তিনি ভাইরাসমুক্ত। লকডাউনের কারণে তিনি পরিবারের বাকিদের সঙ্গে একই বাড়িতে বন্দী রইলেন। পরে দেখা গেল সেই পরিবারের সবার মধ্যেই সংক্রমণ ছড়িয়েছে। সেখান থেকে আরও অনেকের মধ্যে। একটা সময় দেখা যাবে, মানুষের মধ্যেই সুপ্ত হয়ে থাকা ভাইরাসের সংক্রমণ ফের মাথাচাড়া দিয়েছে। তখন পরিস্থিতি আরও ভয়ানক হবে। সেই সংক্রমণ ফের মহামারী হয়ে ছড়িয়ে পড়বে সারা বিশ্বে।’ চীনে এই মুহূর্তে সংক্রমণ কমলেও, ফের সেটা বড় আকার নেবে কি-না প্রতিষেধক তৈরির পাশাপাশি এ বিষয়টিও মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বিজ্ঞানী এবং গবেষকদের।

কোভিড-১৯ ভাইরাস প্রতিরোধে কোয়ারেন্টাইন, হোম কোয়ারেন্টাইন, আইসোলেশন, লকডাউন শব্দগুলো বার বার উচ্চারিত হচ্ছে। কেউবা শব্দগুলোতে স্বস্তি পাচ্ছেন, আবার কেউ ব্যবহারিক দিকটি বুঝতে না পেরে আক্ষরিক অর্থেই নীরব থাকছেন। এক্ষেত্রে শব্দগুলোর বিষদ জেনে নেয়া যাক। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে অবস্থিত রাইস ইউনিভার্সিটির গবেষক এবং আন্তর্জাতিক বক্তা ড. ক্রেইগকন্সিডাইন যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা ও সংবাদভিত্তিক ম্যাগাজিন নিউজ উইকের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন- ‘কোয়ারেন্টাইনের কথা সর্বপ্রথম যিনি বলেছিলেন তিনি হলেনÑ মহানবী হযরত মুহম্মদ (সা)।’ প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইমিউনোলজিস্ট ডা. এ্যান্থনি ফসি এবং মেডিক্যাল রিপোর্টার ডাঃ সঞ্জয় গুপ্তের মতো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেছেন, ‘সংক্রামক রোগের বিস্তার রোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি সুন্দর ব্যবস্থাপনায় হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে। একইসঙ্গে সুস্থ লোকদের জনসমাগম এড়িয়ে চলতে পরামর্শ দিয়েছেন। তারা দাবি করেছেন, এসব উপায়ই করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) থেকে বেঁচে থাকার সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম।’ কোয়ারেন্টাইনে রাখা অবস্থায় উপসর্গ দেখা দিলে তাকে আইসোলেশনে নিয়ে যাওয়া হয়। আইসোলেশন হচ্ছে কারও মধ্যে যখন জীবাণুর উপস্থিতি ধরা পড়ে বা ধরা না পড়লেও উপসর্গ থাকে, তখন তাকে আলাদা করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। বিশেষ এই পদ্ধতিতে কোন রোগীর হাঁচি-কাশি, মল-মূত্র অন্য কারও সংস্পর্শে যাবে না। জীবাণু যাতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, এজন্য রোগীকে যত রকম ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব, আইসোলেশনে তা দেয়া হয়। সংক্ষেপে বলতে গেলে, আইসোলেশন হচ্ছে অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য, আর কোয়ারেন্টাইন হচ্ছে সুস্থ বা আপাত সুস্থ ব্যক্তিদের জন্য।

পৃথিবীর লীলাচর এই প্রকৃতি মানুষের অবাধ বিচরণে তিক্ত হয়েই আজ হয়ত লকডাউনের কম্পন ছড়িয়েছে ক্ষুদ্র এক অনুজীবের মাধ্যমে। কোভিড-১৯ পাল্টে দিচ্ছে পৃথিবীর যাবতীয় খেড়ো খাতা। দেশে দেশে চলছে লকডাউন, জরুরী অবস্থা, কারফিউ। জনবহুল এলাকাগুলো ফাঁকা, যানচলাচল বন্ধ আর জনশূন্য জনপ্রিয় সব পর্যটনকেন্দ্র। সমগ্র বিশ্বের দীর্ঘমেয়াদী লকডাউনে হু হু করে কমছে বায়ুদূষণের মাত্রা! চীন, ইতালি বা ব্রিটেনের আকাশে অবিশ্বাস্য গতিতে কমছে নাট্রোজেন ডাই অক্সাইড, সালফার ডাই অক্সাইড আর কার্বন মনোক্সাইডের মাত্রা! পরিবেশবিদদের হতবাক করে নিউইয়র্কের আকাশে দূষণের মাত্রা কমেছে ৫০% ও বেশি! কেবল উপগ্রহের ছবিতে নয়, ঘরবন্দী ইউরোপের মানুষ খালি চোখেও দেখতে পাচ্ছে ঝকঝকে নির্মল আকাশ! স্মরণকালের মধ্যে যা কখনও দেখেনি তারা! কয়েক মাস আগেও ধুলোময় ছিল ঢাকা, দিল্লী আর বেইজিংসহ বহু বড় শহরের আকাশ। মারাত্মক বায়ুদূষণে পূর্ণ ছিল বায়ুম-ল। কলকারাখানাগুলো বন্ধ থাকায় বাতাসে ধূলিকণাসহ বিষাক্ত সব পদার্থের উপস্থিতি কমেছে। চীন একাই ২০ শতাংশ কম গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ করছে। বায়ুদূষণ নিয়ে কাজ করা সংস্থা আইকিউ এয়ার ভিজ্যুয়াল-এর র‌্যাংকিং অনুযায়ী বর্তমানে ঢাকার অবস্থান ১০৫ পয়েন্ট নিয়ে ১৯ তম। যেখানে আগে বরাবরই থাকত প্রথম পাঁচের মধ্যে।

লকডাউন বা শাটডাউন আসলে চলতে পারে কতদিন ধরে? কী হবে এই লকডাউন পরিস্থিতিতে? আর এগুলো কী করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে পারবে? এ বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস এক প্রেসবিফ্রিংয়ে এ্যাধনমঘেব্রেইয়েসাস বলেন, ‘আমরাও বুঝি যে এসব দেশ আসলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে যা কখন এবং কীভাবে এসব পদক্ষেপগুলো শিথিল করা যায়। মানুষকে ঘরে থাকতে বলা এবং তাদের চলাচল বন্ধ করার অর্থ হচ্ছেÑ সময় নেয়া এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর চাপ কমানো।’ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ‘লকডাউন বা শাটডাউন পরিস্থিতিতে দেশগুলোকে ছয়টি বিষয়ের দিকে নজর দিতে হবে। এগুলো হলো-১. যতটা সম্ভব পারা যায় স্বাস্থ্যসেবা ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সংখ্যা বাড়াতে হবে, তাদের প্রশিক্ষণ ও সেবা কাজে নিয়োগ করতে হবে। ২. কমিউনিটি লেভেলে সংক্রমণ হতে পারেÑ এমন প্রতিটি ঘটনা খুঁজে বের করার ব্যবস্থা করতে হবে। ৩. টেস্ট করার জন্য সবধরনের ব্যবস্থা ত্বরান্বিত করতে হবে। ৪. রোগীদের চিকিৎসা এবং তাদের আইসোলেট করার জন্য পর্যাপ্ত সুবিধার ব্যবস্থা করতে হবে। ৫. রোগীদের সংস্পর্শে আসা প্রত্যেকের কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করার জন্য একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। ৬. ইতোমধ্যে কোভিড-১৯ মোকাবেলার জন্য গৃহীত সরকারী পদক্ষেপগুলো পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে।’

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় এখনই সচেতন না হলে মানবজাতিকে আরও চড়া মাসুল দিতে হবে বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থান না করে আগ্রাসন চালালে মানুষও যে টিকতে পারবে না সেই বার্তাই যেন দিয়ে যাচ্ছে কোভিড-১৯। মানুষও তাই প্রকৃতির শত বছরের এই গঞ্জনা মুছতে স্বীয় ভাগ্যলিপিতে যোগ করেছে নৈতিকতা, পারিবারিক বন্ধন। আর সুদ, হিংসা, বিবাদ, লোভ, ক্ষমতাকে দূরে ঠেলে স্রষ্টার অপার মহিমা ঘোষণায় নিজেকে করেছে ব্যস্ত। কারণ মানুষ কখনও কোন পরিস্থিতিকেই দুর্ভাগ্য হিসেবে বহন করে সামনে এগোতে শেখিনি। দুর্ভাগ্যের প্রতিটি বুনো ঝোঁপ থেকে আমরা ছিনিয়ে এনেছি অমূল্য সম্পদ। কোভিড-১৯-এর তা-বলীলায় প্রকৃতির যতটা অশ্রু এসে মিশেছে আমাদের মধ্যরাতের বালিশে, কুহেলিকার প্রচ্ছন্নতায় শিশিরভেজা ঘাসের ওপর আমাদের হলদে সকাল ঠিক ততটাই সজীবতার আল্পনা এঁকে যাবে। জয় হবে আমাদের এই প্রত্যাশার, জয় হবে মানবের শুভ যত কর্মের।

সূত্রঃ দৈনিক জনকণ্ঠ