করােনা সংক্রান্ত তথ্য

করোনা পরবর্তী অবসাদ: কী এবং কেন

করোনা মহামারি আমাদের জীবনের সবক্ষেত্রেই প্রভাব ফেলেছে। আর সেটা থেকে বাদ যায়নি আমাদের মানসিক স্বাস্থ্য। করোনা নতুনভাবে অনেককে অবসাদগ্রস্ত করেছে। আর অতীতে মানসিক সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের পরিস্থিতি করে তুলেছে আরো নাজুক। মহামারির মধ্যে প্রিয়জন হারানো, সামাজিকভাবে দূরে থাকা আর অনিশ্চিত অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের কারণে মানুষ এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে বলে মনে করছেন মনোবিজ্ঞানীরা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর মতে, “সারাক্ষণ মনের মধ্যে দুঃখের ভাব থাকা এবং আগে যে সমস্ত কাজে আগ্রহ ও আনন্দ ছিল, সেই সমস্ত কাজে আগ্রহ কিংবা আনন্দ হারানোই অবসাদগ্রস্ত হওয়ার লক্ষ্মণ।”

অবসাদ মন ও শরীর দুটোকে প্রভাবিত করে। মানুষের ঘুম, খাদ্যাভ্যাস ও পৃথিবী দেখার দৃষ্টিভঙ্গিকেও বদলে দেয় অবসাদ। অনেকের কাছে সাধারণ ব্যাপার মনে হলেও বহু মানুষের ক্ষেত্রে এর ফলাফল ভয়াবহ হতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব বলছে, বিশ্বের সাড়ে ২৬ কোটির মতো মানুষ কোনো না কোনো ধরনের অবসাদে ভুগছেন। মহামারির শুরুতে চীনে এক গবেষণায় দেখা গিয়েছিল, জরিপে অংশগ্রহণকারী ৩৫% ব্যক্তিই মানসিক নানা সমস্যায় ভোগার কথা জানিয়েছেন। আগে থেকে অবসাদগ্রস্তদের অবস্থা আরও খারাপ হওয়ার তথ্যই পাওয়া যায় এই গবেষণায়। করোনায় আক্রান্ত হয়ে তা থেকে মুক্ত হওয়ার পরও অনেকে অবসাদে ভুগছেন বলেই জানিয়েছেন গবেষকগণ।

বিশেষজ্ঞগণ বলছেন, মহামারির মতো জনস্বাস্থ্য সমস্যায় অবসাদগ্রস্ত ব্যক্তিদের পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে দেয়। একদিকে তাদের সেবা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়, অন্যদিকে তাদের ওপর নিজে ও পরিবারের সদস্যগণের করোনা আক্রান্ত হবার আতঙ্ক অতিমাত্রায় ভর করতে পারে। আর্থিক অবস্থা, দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর ব্যবস্থায় ঘাটতি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তার পাশাপাশি এক ধরনের অসহায়ত্ব গ্রাস করে তাদেরকে।

অতএব, করোনা মহামারি সময়ে অবসাদগ্রস্ততা নিয়ে গুরুত্বের সাথে চিন্তা করবার সময় এসেছে। এই কারণে চিকিৎসকগণের শরণাপন্ন হওয়া অতীব জরুরি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

সম্পর্কিত পোস্ট

আরও আরও...আর পাওয়া যায়নি.