গর্ভকালীন সমস্যা ও স্ত্রী রোগ

নারীদের রোগ: “এন্ডোমেট্রিয়োসিস” নিয়ে যা জানা দরকার

এন্ডোমেট্রিয়োসিস হলো এক ধরনের স্ত্রীরোগ। জরায়ুর ভেতরের আস্তরণকে বলা হয় ‘এন্ডোমেট্রিয়াম’।

এন্ডোমেট্রিয়ামে অবস্থিত বিশেষ ধরনের কোষগুচ্ছ কোনো কোনো সময় জরায়ু গহ্বরের বাইরেও অবস্থান নেয়,

ফলে নারীদেহে বিভিন্ন রকমের জটিলতা তৈরি হয়। এই অবস্থাকে ‘এন্ডোমেট্রিয়োসিস’ বলে৷ একজন নারী তার জীবনকালের

যেকোনো সময়ে এই রোগে ভুগতে পারেন৷

এন্ডোমেট্রিয়োসিসের লক্ষণসমূহ:

  • ব্যথাযুক্ত পিরিয়ড হওয়া! এটাকে ডাক্তারি ভাষায় বলা হয় ‘ডিসম্যানুরিয়া’।
  • যৌন সহবাসের সময় কিংবা পরে ব্যথা অনুভব করা৷
  • প্রস্রাব করার সময় ব্যথা অনুভব করা৷ সাধারণত পিরিয়ড চলাকালীন সময়ে এই ব্যথা অনুভূত হয়।
  • অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়া। কখনো কখনো পিরিয়ডের সময় অতিরিক্ত রক্ত যেতে পারে৷ অথবা দুটি পিরিয়ডের মধ্যবর্তী সময়েও ব্যাপারটা ঘটতে পারে৷
  • গর্ভধারণ করতে না পারা!  অনেক সময় গর্ভধারণে জটিলতা সংক্রান্ত চিকিৎসা করতে গেলে এন্ডোমেট্রিয়োসিস ধরা পড়ে৷
  • এছাড়াও দুর্বলতাবোধ, ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, বমি বমি ভাব বিশেষত পিরিয়ড চলাকালীন অবস্থায় হতে পারে৷

যাদের এন্ডোমেট্রিয়োসিস হবার উচ্চঝুঁকি আছে:

  • মা, বোন, কন্যা–এমন কারো এই রোগটি থেকে থাকলে,
  • ৩০ বছর বয়সের পরে যদি কোনো নারী তার প্রথম বাচ্চার জন্ম দিয়ে থাকেন,
  • জরায়ুতে কোনো ধরনের অস্বাভাবিকতা থাকলে,
  • স্বাভাবিক সময়ের আগেই বারবার পিরিয়ড শুরু হলে,
  • পিরিয়ড অনেকদিন ধরে চললে অথবা পিরিয়ড চলাকালীন সময়ে অনেক বেশি রক্তক্ষরণ হলে।

এন্ডোমেট্রিয়োসিস হলে পরবর্তীতে যে সমস্যাগুলো হতে পারে:

  • গর্ভধারণে জটিলতা।
  • কখনই গর্ভধারণ করতে না পারা।
  • ক্যান্সার।


কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

উল্লেখিত লক্ষণগুলো মিলে গেলে যতদ্রুত সম্ভব একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিন৷ রোগের শুরুতেই ধরা পড়লে,

আপনার আরোগ্য লাভ দ্রুত হবে৷

তথ্যসুত্র: 

https://www.hopkinsmedicine.org/health/conditions-and-diseases/endometriosis?amp=true

https://www.mayoclinic.org/diseases-conditions/endometriosis/symptoms-causes/syc-20354656

https://www.healthline.com/health/endometriosis

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

সম্পর্কিত পোস্ট

আরও আরও...আর পাওয়া যায়নি.