গর্ভকালীন সমস্যা ও স্ত্রী রোগ

নারীদের রোগ পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম নিয়ে যা জানা জরুরি

পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম ( Polycystic Ovary Syndrome) বা সংক্ষেপে PCOS হলো নারীদের একটি হরমোনজনিত রোগ৷ একজন নারী তার সন্তানধারণ সময়কালের অর্থাৎ পিরিয়ড হওয়ার পর থেকে মেনোপোজ হওয়ার সময় পর্যন্ত, যেকোনো সময়ে এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন, যা তার সন্তানধারণ করার ক্ষমতা বা ফারটিলিটি-কে বাধাগ্রস্থ করতে পারে৷

PCOS হওয়ার জন্য দায়ী হরমোনগুলো:

এন্ড্রোজেন:  এই হরমোনটি পুরুষদের হরমোন নামে পরিচিত৷ কিন্তু PCOS-এ আক্রান্ত নারীদের দেহে এই হরমোনটি উচ্চমাত্রায় পাওয়া যেতে পারে৷

ইনসুলিন: এই হরমোনটি আমাদের রক্তের চিনির পরিমাণকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে৷ আপনার যদি PCOS হয়ে থাকে তবে ইনসুলিন যেভাবে আপনার

দেহে কাজ করার কথা সেভাবে করবে না৷ যার কারণে অনেকের টাইপ-২ ডায়াবেটিস দেখা দিতে পারে৷

প্রোজেস্টেরন: এটি নারীদের দেহে উচ্চমাত্রায় পাওয়া যায়৷ কিন্তু একজন নারী যদি PCOS-এ আক্রান্ত হয়ে থাকেন তবে প্রোজেস্টেরন তার দেহে যেভাবে

নিঃসরিত হবার কথা সেভাবে হবে না৷ যার ফলে একজন নারী তার পিরিয়ড মিস করতে পারেন অথবা পিরিয়ডকালীন

সময়ে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় পড়ে যেতে পারেন৷

PCOS আক্রান্ত নারীরা যেসব জটিলতার সম্মুখীন হতে পারেন:

  • গর্ভধারণে জটিলতা।
  • ডায়াবেটিস।
  • মেটাবোলিক সিনড্রোম যেমন–হৃদনালি সংক্রান্ত রোগে আক্রান্ত হওয়া, রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইড, কোলেস্টেরল ইত্যাদি বেড়ে যাওয়া, রক্তচাপ বাড়া, ইত্যাদি।
  • বিষণ্ণতা অনুভব করা।
  • উদ্‌বেগ।
  • জরায়ু থেকে রক্তপাত হওয়া।
  • ঘুমের সমস্যা৷
  • যকৃতে প্রদাহ।

PCOS-এর সম্ভাব্য লক্ষণসমূহ:

১. শরীরের বিভিন্ন অংশে অপ্রয়োজনীয় চুল গজানো৷ যেমন–মুখমণ্ডল, স্তন, হাত কিংবা পায়ের পাতায়।

২. প্রতিনিয়ত চুল পড়া বা চুলের ঘনত্ব হালকা হতে থাকা৷

৩. ত্বক অতিরিক্ত তেলতেলে হওয়া বা ব্রণ হওয়া।

৪. শরীরের বিভিন্ন অংশের ত্বক কালো হয়ে যেতে থাকা যেমন–হাত কিংবা স্তনের নিচের ত্বকে, গলার পেছনের অংশে, কুঁচকিতে কালো দাগ ইত্যাদি৷

৫. ঘুমে সমস্যা হওয়া কিংবা সারাক্ষণ দুর্বলতা অনুভব করা৷

৬. মাথাব্যথা৷

৭. পিরিয়ডকালীন সময়ে অতিরিক্ত রক্ত যাওয়া৷

৮. অনিয়মিত পিরিয়ড হওয়া৷

৯. গর্ভধারণে সমস্যা হওয়া৷

১০. ওজন বাড়তে থাকা৷

কখন আপনি একজন ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন?

উল্লেখিত লক্ষণের সবগুলো অথবা কয়েকটি লক্ষণ যখন আপনি দেখতে পাবেন, দেরি না করে একজন ডাক্তারের পরামর্শ নিন৷ 

সঠিক চিকিৎসা এবং জীবনযাত্রার ধরণ পরিবর্তনের মাধ্যমে এ রোগ থেকে সুস্থ হওয়া সম্ভব৷ এজন্য যত দ্রুত ডাক্তারের সহায়তা নিবেন, আপনার সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা ততই বাড়বে৷

ডাক্তারের সাথে যোগাযোগের সময় আপনার সমস্যাগুলো বলার সাথে সাথে আপনার পরিবারে কারো এই ধরনের সমস্যা আছে কি না

অথবা সরাসরি PCOS আছে কি না সেই তথ্যগুলো দিন৷ তাতে ডাক্তারের পক্ষে আপনার রোগ নির্ণয় অধিকতর সহজ হয়।

তথ্যসূত্র: https://www.webmd.com/women/what-is-pcos

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

সম্পর্কিত পোস্ট

আরও আরও...আর পাওয়া যায়নি.