গর্ভকালীন সমস্যা ও স্ত্রী রোগ

পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন বা প্রসব-পরবর্তী বিষণ্ণতা কী?

পরিবারে যখন কোনো নতুন সদসস্যের আগমন ঘটে তখন সবাই তাকে নিয়েই ব্যস্ত সময় কাটায়। ফলে সদ্য প্রসূতি মায়ের দিকে তেমন খেয়াল অনেক সময়ই রাখা সম্ভব হয় না। কিন্তু সন্তান জন্মদানের পরবর্তী সময়ে প্রসূতি মায়েদের অনেক ধরনের শারিরীক-মানসিক পরিবর্তন দেখা দেয়। 

অনেক নারীর ক্ষেত্রেই সন্তান জন্ম দেওয়ার পরপর তাদের আচরণে দুঃখবোধ কিংবা শূন্যতা অনুভব এবং অতিরিক্ত আবেগ প্রবণতা দেখা যায়, যা স্বাভাবিক একটি বিষয়। বেশিরভাগ নারীর ক্ষেত্রেই এর স্থায়িত্ব কয়েক দিন হয় । কিন্তু যদি সন্তান জন্মদানের পর দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে মন খারাপ, অতিরিক্ত মেজাজ এবং অসহায়বোধ ভাব থেকে যায়, তবে তিনি পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন বা প্রসব পরবর্তী বিষণ্ণতায় ভুগতে পারেন। বিশেষত সন্তান জন্মদানের পর দেহে হরমোনের পরিবর্তনের কারণেও এই জাতীয় ডিপ্রেশন হতে পারে।

প্রসবপরবর্তী বিষণ্ণতার কিছু লক্ষণ হলো– 

  • অস্থির লাগা বা মেজাজ খারাপ হয়ে থাকা;
  • কোনো কারণ ছাড়াই মন খারাপ বা কান্না আসা;
  • অতিরিক্ত ঘুম হওয়া অথবা প্রচণ্ড ক্লান্ত লাগলেও ঘুম না আসা;
  • খুব কম খাওয়া কিংবা অতিরিক্ত খাওয়া
  • নানান ব্যথা বা অস্বস্তি অনুভব হওয়া
  • সবকিছু অতিরিক্ত মনে হওয়া এবং হতাশ লাগা;
  • নিজেকে অসহায় লাগা;
  • মনোনিবেশ করতে বা সহজ সিদ্ধান্ত নিতে না পারা
  • যে জিনিসগুলো এক সময় উপভোগ করতেন তাতে বর্তমানে কোনো আগ্রহ না থাকা
  • কোনো কাজে শক্তি বা অনুপ্রেরণা না পাওয়া;
  • শিশুকে বা নিজেকে আঘাত করার কথা চিন্তা করা
  • সন্তানের প্রতি কোনো আগ্রহ কাজ না করা, তার থেকে দূরে থাকা। অর্থাৎ এমন মনে হওয়া যে সন্তান নিজের নয়, অন্য কারোর।
  • স্মৃতির সমস্যা বা কম হওয়া;
  • অপরাধবোধে ভোগা বা নিজেকে খারাপ মা মনে হওয়া;
  • পরিবার ও বন্ধুদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া বা পালাতে চাওয়া

কখনও কখনও প্রসবোত্তর বিষণ্ণতার লক্ষণগুলো প্রসবের পরপরই দেখা দিতে পারে আবার কখনো কখনো কয়েক মাস পরেও দেখা দিতে পারে। কারো কারো ক্ষেত্রে লক্ষণগুলো এক বা দুই দিনের জন্য হয়, কারো ক্ষেত্রে আবার লক্ষণগুলো ফিরে ফিরে আসতে পারে। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না দেওয়া হলে লক্ষণগুলো আরো জটিল আকার ধারণ করতে পারে।

প্রসবোত্তর বিষণ্ণতা একজন সদ্য প্রসূতি মা কিংবা তার নবজাতক শিশুর যত্ন নেওয়া কঠিন করে তুলতে পারে। তাই এর প্রতিকার এবং চিকিৎসা খুবই জরুরি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

সম্পর্কিত পোস্ট

আরও আরও...আর পাওয়া যায়নি.