জীবিকা ও দক্ষতা

কাজের ক্ষেত্রে অতিগুরুত্বপূর্ণ ‘সফট স্কিল’!

কোনো প্রতিষ্ঠান কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর দক্ষতাকে গুরুত্ব দিয়ে থাকে। এই দক্ষতা বা স্কিল হয়ে থাকে দুই ধরনের: হার্ড স্কিল আর সফট স্কিল। যে কাজের জন্য আপনাকে নিয়োগ দেওয়া হবে তা কতটুকু দক্ষতার সঙ্গে আপনি করতে পারেন সেটিই হলো হার্ড স্কিল অর্থাৎ টেকনিক্যাল দক্ষতা। তাহলে সফট স্কিল বলতে কোন দক্ষতাকে বোঝায়? 

সফট স্কিল কী?

সহজভাবে সফট স্কিল বলতে এমন দক্ষতাকে বোঝানো হয় যা ব্যক্তির ব্যক্তিত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত। অপরপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের দক্ষতা, মানসিক চাপ সামলানোর ক্ষমতা, সমস্যা নিয়ে ভেবে সমাধানের উপায় বের করার ইচ্ছা–এসব সফট স্কিলের অন্তর্গত। এই দক্ষতা লাইফ স্কিল বা জীবন দক্ষতা, আন্তঃব্যক্তিক দক্ষতা কিংবা প্রয়োজনীয় দক্ষতা হিসেবেও পরিচিত।

কী কী বিষয় সফট স্কিলের অন্তর্গত?

একজন ব্যক্তি তার কর্মক্ষেত্রে কেমন আচরণ করবে, চাপের মধ্যেও কীভাবে কাজ করবে এবং তার পেশাদার সম্ভাবনা কতখানি তা বোঝা যায় তার সফট স্কিলের মাধ্যমে। সফট স্কিলের ভেতর রয়েছে:

সময় ব্যবস্থাপনা–সময় অনুযায়ী কর্মক্ষেত্রে আসা, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করাই সময় ব্যবস্থাপনা। একজন কর্মীর সময় ব্যবস্থাপনায় দক্ষ হওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ এতে হুট করে কাজের চাপ বেশি এলেও কর্মী যেন তা সময়ের মধ্যেই সামলে নিতে পারে।

যোগাযোগ দক্ষতা–সহকর্মী এবং প্রতিষ্ঠানসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে সৌহার্দপূর্ণ আচরণ করাই যোগাযোগ দক্ষতা। অনেক ব্যক্তি কাজে দক্ষ হলেও অপরপক্ষের সঙ্গে ঠিকমতো কথা বলতে জানেন না কিংবা যা বোঝাতে চাচ্ছেন তা সঠিকভাবে বোঝাতে সক্ষম হন না। এই বিষয়টিকে তার যোগাযোগের অদক্ষতা ধরা হয়। কথা শোনা, কথা বলতে পারা, সঠিকভাবে প্রেজেন্টেশন দিতে পারা ইত্যাদিও যোগাযোগ দক্ষতার অন্তর্গত।

সমস্যা সমাধান–কর্মক্ষেত্রে সৃষ্ট সমস্যা নিজ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে সমাধান করতে পারাই হলো সমস্যা সমাধান দক্ষতা। সমস্যাটিকে খুঁজে বের করা, যৌক্তিক বিশ্লেষণ করা, সমস্যা পর্যবেক্ষণ করা এবং বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে তার সমাধান করা একজন যোগ্য কর্মীর বৈশিষ্ট্য।

দলগতভাবে কাজ করা–টিমওয়ার্ক বা দলে কাজ করার দক্ষতা একটি গুরুত্বপূর্ণ সফট স্কিল। অনেকেই একা ভালো কাজ করতে পারলেও দলগতভাবে কাজ করতে পারেন না। এমন কর্মী কিন্তু কোনো প্রতিষ্ঠানই চায় না।

সৃজনশীলতা–বর্তমান প্রতিযোগীতামূলক বিশ্বে অন্যের থেকে এগিয়ে থাকতে হলে সৃজনশীল জ্ঞান থাকা আবশ্যক। একজন কর্মীর সৃজনশীলতাকে বাড়তি দক্ষতা হিসেবে বিচার করে প্রতিষ্ঠান।

নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা–দায়িত্ব নিয়ে কোনো সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসা একজন দক্ষ কর্মীর বড়ো গুণ। দলগতভাবে কাজ করতে গেলে কোনো সমস্যার সমাধান কিংবা সৃজনশীলতা প্রয়োগ করে সেটিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পেছনে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা বড়ো ভূমিকা পালন করে।

এসবের পাশাপাশি একজন ব্যক্তির কাজের প্রতি আগ্রহ, জানতে চাওয়ার ইচ্ছা, নিজের আইডিয়া শেয়ার করা, কাজের প্রতি সততা বজায় রাখা, ব্যক্তিত্ব মেনে চলা ইত্যাদিও তার সফট স্কিল হিসেবে কাজ করে।

নিয়োগ কর্তারা কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে সফট স্কিল সম্পন্ন ব্যক্তিকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন, কেননা কর্মক্ষেত্রেই তারাই বেশি সফল হতে পারেন। একজন ব্যক্তি কাজে খুবই দক্ষ কিন্তু টিমের সঙ্গে কাজ করতে পারেন না–এমনটা হলে তার কর্মক্ষেত্রে সফল হওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। কেবল কর্মজীবনেই নয়, ব্যক্তিজীবনেও সফট স্কিল সমান গুরুত্বপূর্ণ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

সম্পর্কিত পোস্ট