করােনা সংক্রান্ত তথ্য

কেন হাত ধুতে হবে?/ সাবান নাকি স্যানিটাইজার- কোনটি বেশি কার্যকর?

বাংলাদেশে করোনাভাইরাস মহামারী অনেকটা নিয়ন্ত্রণে চলে এলেও সংক্রমণ এখনো থেমে যায়নি। করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে দেশজুড়ে দ্রুত গতিতে চলছে টিকাদান কার্যক্রম। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, মহামারী থেমে গেলেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে সবাইকে। আপনি ও আপনার পরিবারকে করোনাসহ অন্যান্য রোগবালাই থেকে মুক্ত রাখতে একটি অনন্য পদ্ধতি হল- নিয়মিত হাত ধোয়া বা স্যানিটাইজ করা।

কেন হাত ধোয়াটা জরুরি?

আমরা সকলেই জানি, করোনাভাইরাস হাঁচি ও কাশির মাধ্যমে ছড়ায়। কোনো ব্যক্তি যখন হাঁচি কিংবা কাশি দেয়, তখন ভাইরাসটি মানবদেহ থেকে বিভিন্ন বস্তুর উপরিতলে ছড়িয়ে পড়ে। অন্য কেউ যদি সেখানে হাত দিয়ে স্পর্শ করেন তখন ভাইরাসটি হাতে আটকে যায়। এই হাত কোনো কারণে ব্যক্তির নাক, মুখ কিংবা চোখের সংস্পর্শে এসে শরীরে প্রবেশ করলেই তিনি করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে যান এবং কয়েকদিনের ব্যবধানে অসুস্থ হয়ে পড়েন। করোনাভাইরাস ছাড়াও অন্যান্য ভাইরাস হাতের মাধ্যমে খাবারের সঙ্গে আমাদের দেহে প্রবেশ করে আমাদের অসুস্থ করে দিতে পারে। এ কারণেই নিয়মিত হাত ধোয়াটা জরুরি।

সাবান নাকি স্যানিটাইজার- কোনটি বেশি কার্যকরী?

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পরপরই এই প্রশ্নটি অনেকটা বড় হয়ে সামনে এসেছিল। স্যানিটাইজারের চাহিদা বেড়ে গিয়েছিল বাজারে। অনেকক্ষেত্রে বেশি দাম রাখা হচ্ছিল স্যানিটাইজারের জন্য, আবার কোথাও কোথাও এই জীবাণুনাশকটি পাওয়াও যাচ্ছিল না। অনেকের ধারণা ছিল- স্যানিটাইজারের মাধ্যমেই কেবল হাতের জীবাণু দূর করা সম্ভব।

তবে ধারণাটি একেবারেই ভুল। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংস্থা (সিডিসি) জানিয়েছে, হাতকে রোগ-জীবাণুমুক্ত করতে সাবান দিয়ে হাত ধোয়াটাই বেশি কার্যকরী। তবে যেখানে সাবান ও পানি নেই সেখানে স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হবে। জাতিসংঘ শিশু তহবিলও (ইউনিসেফ) একই রকম তথ্য দিচ্ছে।

বিশ্বের অন্যতম সেরা স্বাস্থ্য বিষয়ক এই প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, স্যানিটাইজার হাতকে সব ধরনের জীবাণু থেকে মুক্ত করে না। হাতে দৃশ্যমান ময়লা বা তেল/চর্বি থাকলে স্যানিটাইজার তেমন কার্যকর নাও হতে পারে। এছাড়া স্যানিটাইজার হাত থেকে কীটনাশক ও ভারী ধাতুর মতো ক্ষতিকর রাসায়নিক দূর করতে পারে না। অ্যালকোহলসমৃদ্ধ হ্যান্ড স্যানিটাইজার করোনাভাইরাস মেরে ফেললেও তা সব ধরনের ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস নির্মূল করে না। তবে এই সবগুলো ক্ষেত্রেই জীবাণু ধ্বংসে কার্যকরী হচ্ছে সাবান।

কখন হাত ধুতে হবে?

কোভিড-১৯ মোকাবিলায় হাত ধোয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছে জাতিসংঘের সহযোগী সংস্থা ইউনিসেফ। তারা বলেছে, নিন্মোক্ত কাজগুলোর পর আপনাকে অবশ্যই হাত ধুতে হবে।

> নাক ঝাড়া এবং হাঁচি ও কাশি দেওয়ার পর।

> গণপরিবহন, বাজার বা উপাসনালয়ের মতো জনসমাগমস্থল ঘুরে আসার পর।

> ঘরের বাইরের কোনো কিছু স্পর্শ করে, এমনকি টাকা ধরার পরেও।

> কোনো অসুস্থ লোককে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় নেওয়ার আগে, নেওয়ার সময় এবং নেওয়ার পরে।

> খাওয়ার আগে ও খাওয়ার পরে। 

হাত ধোয়ার নিয়ম

সাধারণ হাত ধোয়া আর ভাইরাস থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে হাত ধোয়ার মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে। সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ হাতে মেখেই তা সঙ্গে সঙ্গে ধুয়ে ফেললে আপনি ভাইরাস থেকে সুরক্ষিত নাও থাকতে পারেন। এক্ষেত্রে কিছু উপায় বলে দিয়েছে ইউনিসেফ। সেগুলো হল-

প্রথম ধাপ: প্রবাহমান পানি দিয়ে হাত ভেজানো।

দ্বিতীয় ধাপ: ভেজা হাতের পুরোটায় ভালোভাবে সাবান মাখানো।

তৃতীয় ধাপ: অন্তত ২০ সেকেন্ড হাতের সামনের ও পেছন ভাগ, আঙুলগুলোর মধ্যে ও নখের নিচের অংশ ভালোভাবে ঘষতে হবে।

চতুর্থ ধাপ: প্রবাহমান পানি দিয়ে পুরো হাত ভালোভাবে কচলে ধুয়ে নিতে হবে।

পঞ্চম ধাপ: পরিষ্কার কাপড় বা শুধু এককভাবে ব্যবহার করা হয় এমন তোয়ালে দিয়ে হাত মুছে নিতে হবে।

সাবান নিয়ে এতো আলোচনার কারণে আপনার কী তাহলে মনে হচ্ছে স্যানিটাইজার একেবারেই সুরক্ষা দেয় না? মোটেও তা নয়। গবেষকরা বলেছেন, সাবান অধিক কার্যকরী। বাংলাদেশে সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ সহজে পাওয়া যায় বলে আমরা সেটি নিয়ে আলোচনা করেছি। যেখানে সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে হাত ধোয়ার সুযোগ নেই, সেখানেই স্যানিটাইজার ব্যাবহার করতে বলেছেন বিজ্ঞানীরা। হাতের তালুতে স্যানিটাইজারের কয়েক ফোঁটা নিয়ে ঘষা দিলও ভাইরাস মরে যায় বলে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন।

তাই সাবান, হ্যান্ডওয়াশ বা স্যানিটাইজার যা-ই হোক- নিজে ও অন্যদের নিরাপদ রাখতে স্বাস্থ্যবিধির এই অনুষঙ্গটি মেনে চলুন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

সম্পর্কিত পোস্ট

আরও আরও...আর পাওয়া যায়নি.