বয়স্কদের যত্ন

বাংলাদেশ প্যালিয়েটিভ সেবা কোথায় নিবেন?

পৃথিবীতে শেষ দিনগুলো সুস্থভাবে ও শান্তিতে কাটাতে প্রবীণ বা দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি ও তার প্রিয়জনদের প্যালিয়েটিভ কেয়ার সম্পর্কে ধারণা থাকা উচিত। দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির সর্বোচ্চ যত্ন নিতে এবং তাদের অসুবিধা, ব্যথা ও পীড়া উপশম করতে প্যালিয়েটিভ কেয়ার বা উপশমকারী সেবা দেওয়া হয়। বাংলাদেশের যেসব প্রতিষ্ঠান সেবা দিচ্ছে তার মধ্যে প্রধান কয়েকটি সম্পর্কে বলা হলো– 

সেন্টার ফর প্যালিয়েটিভ কেয়ার, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, শাহবাগ, ঢাকা

বাংলাদেশের প্রথম সারির এই মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যালিয়েটিভ কেয়ার ইউনিটে রোগীদের বহির্বিভাগে পরামর্শ দেওয়া হয় এবং ভর্তি রোগীদের জন্য কেবিন ও বেডের ব্যবস্থা রয়েছে। হাসপাতালে ২০ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত রোগীদের বাসায় গিয়েও সেবা দেওয়া হয়। রেজিস্টার্ড রোগীরা ঢাকার বাইরে অবস্থান করলে ফোনে সেবা নিতে পারবেন।

আশিক (ASHIC) ফাউন্ডেশন, ধানমন্ডি, ঢাকা

১৯৯৪ থেকে আশিক ফাউন্ডেশন ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে। এই ফাউন্ডেশনের প্যালিয়েটিভ কেয়ার ইউনিট মে ২০১৮ পর্যন্ত ৪৬১ শিশুর জীবনের শেষ মুহূর্তগুলো প্রশান্তিময় করতে সাহায্য করেছে। এছাড়া তারা শিশু ও তার পরিবারের জন্য কাউন্সেলিং, চিকিৎসার জন্য ঢাকায় থাকার ব্যবস্থা এবং ক্যান্সার চিকিৎসার টাকা যোগানের ব্যবস্থা করে থাকে।

জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনষ্টিটিউট ও হাসপাতাল, মহাখালী, ঢাকা

অসচেতনতাসহ অন্যান্য কারণে বাংলাদেশ অনেক ক্যান্সার রোগীর রোগ নির্ণয় হয় ক্যান্সারের শেষ পর্যায়ে। এই রোগীদের চিকিৎসার মূল উদ্দেশ্য হয় ব্যথা উপশম ও প্যালিয়েটিভ সেবা। এই হাসপাতলে বহির্বিভাগে প্যালিয়েটিভ সেবার ব্যবস্থা রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ প্যালিয়েটিভ সেবা কী? কাদের জন্য এ ধরনের সেবা প্রয়োজন? 

ফসিউদ্দিন খান রিসার্চ ফাউন্ডেশন, কক্সবাজার

যেকোনো বয়সের মুমূর্ষু রোগীকে বিভিন্ন ধরনের প্যালিয়েটিভ সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে এখানে। এ প্রতিষ্ঠানটি ২০১৭ থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য প্যালিয়েটিভ সেবার ব্যবস্থা করছে।

প্রকৃতি ও জীবন হেলথ কেয়ার সেন্টার, সাভার

দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্তদের মধ্যে যারা অসচ্ছল ও সুবিধাবঞ্চিত তাদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে এই প্রতিষ্ঠান। চেকআপ, চিকিৎসা, ওষুধ প্রদান ইত্যাদি সেবা এখানে বিনামূল্যে দেওয়া হয়। এরমধ্যে প্যালিয়েটিভ সেবাও অন্তর্ভুক্ত।

এছাড়া রাজধানীতে প্যালিয়েটিভ সেবা দেওয়া হয় এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে– 

  • হসপিস বাংলাদেশ, মোহাম্মদপুর
  • মোসাব্বির ক্যান্সার কেয়ার সেন্টার, ধানমন্ডি
  • প্যালিয়েটিভ কেয়ার সোসাইটি, বারিধারা
  • শান্তি অনকোলজি অ্যান্ড প্যালিয়েটিভ কেয়ার ইউনিট, ধানমন্ডি।

উল্লেখিত সব প্রতিষ্ঠানে মুমূর্ষু রোগীর সেবা, দুরারোগ্য ব্যাধি বা বার্ধক্যজনিত ব্যাধিতে আক্রান্ত রোগীর সেবা, রোগী ও তার পরিবারের কাউন্সেলিং, শোক বহন করার কাউন্সেলিং ইত্যাদি সেবা দেওয়া হয়। 

এই প্রতিষ্ঠানসমূহ ছাড়াও বিভিন্ন টারশিয়ারি বা বিশেষায়িত হাসপাতালে সেবা নেওয়ার সময় খোঁজ নিতে পারেন সেখানে প্যালিয়েটিভ কেয়ারের ব্যাবস্থা আছে কি না। রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতাল ও সিটি হাসপাতালে এই সেবা দেওয়া হয়।

প্যালিয়েটিভ কেয়ার ব্যবস্থা এবং এর ব্যাপারে সচেতনতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনো অনেক পিছিয়ে। তবে উৎকৃষ্টমানের প্যালিয়েটিভ কেয়ার দেশেও পাওয়া সম্ভব। গুরুতর রোগের চিকিৎসার পাশাপাশি প্যালিয়েটিভ কেয়ার নিশ্চিত করতে জনগণ ও স্বাস্থ্যকর্মী সবার সচেতন হওয়া উচিত।

তথ্যসূত্রঃ

https://www.thedailystar.net/supplements/news/death-need-not-be-painful-palliative-care-bangladesh-1863274

https://hospicecare.com/global-directory-of-providers-organizations/search/?idcountry=33

http://cpc.bsmmu.edu.bd/Services?link=4

https://www.pojf.org/social-works.html

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

সম্পর্কিত পোস্ট