প্রচলিত রােগ ও সুরক্ষা

ডায়রিয়ায় স্যালাইন ও অন্যান্য তরল খাওয়ানোর সঠিক নিয়ম

ডায়রিয়া বা অন্য যেকোনো কারণে পানিশূন্যতা প্রতিরোধে কার্যকর সমাধান হলো খাবার স্যালাইন খাওয়া। ডায়রিয়ার কারণে শরীর থেকে

যে অতিরিক্ত পানি বের হয়ে যায়, সেই ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়াই স্যালাইনের কাজ।

কিন্তু স্যালাইন ভুল নিয়মে খেলে উপকার হবে না, বরং এতে ক্ষতির সম্ভাবনাই বেশি। তাই চলুন জেনে নেই ডায়রিয়ায় স্যালাইন ও অন্যান্য তরল

খাবার খাওয়ানো নিয়ে কিছু বহুল প্রচলিত প্রশ্নের উত্তর।

প্রশ্ন: কীভাবে সঠিক নিয়মে স্যালাইন খেতে হবে?

উত্তর: শরীরে পানি প্রতিস্থাপনের কাজটা তাড়াহুড়া করে করা যাবে না। ধীরে ধীরে করতে হবে। তাই স্যালাইন একটু একটু করে চুমুক দিয়ে খেতে হবে।

  • বয়স ২ বছরের কম হলে–

বাচ্চাকে প্রতিবার পাতলা পায়খানার পরে একটা বড়ো কাপের (২৫০ মিলি) অর্ধেক বা সোয়া পরিমাণ খাওয়াতে হবে। চামচে হিসাব করলে ১০ থেকে ২০ চা চামচ।

  • ২ থেকে ১০ বছর বয়সি বাচ্চা–

প্রতিবার পাতলা পায়খানার পরে বড়ো কাপের (২৫০ মিলি) পুরোটা অথবা কমপক্ষে অর্ধেক খাওয়াতে হবে।

  • ১০ বছরের বেশি বয়স–

প্রতিবার পাতলা পায়খানার পরে কমপক্ষে বড়ো কাপের (২৫০ মিলি) পুরোটা বা ২ কাপ অর্থাৎ স্যালাইনের প্যাকেটের পুরোটা খেতে হবে।

প্রশ্ন: স্যালাইন খাওয়ানোর পরে বাচ্চা বমি করলে?

উত্তর: ১০ মিনিট অপেক্ষা করুন, তারপর আবার স্যালাইন দিন। সাধারণত বমি এমনিতেই থেমে যাবে। একটু একটু করে খাওয়ান। তাড়াহুড়ো করবেন না।

বমি হলেও শরীর ঠিকই একটু না একটু পানি এবং লবণ শোষণ করে নেবে।

প্রশ্ন: ডায়রিয়া হলে কী শুধু কি স্যালাইনই খাওয়াবো?

উত্তর: না। সাথে তরল জাতীয় অন্যান্য খাবারও খাওয়াতে হবে। যেমন স্যুপ, বা জ্যুস, ডাবের পানি, ভাতের মাড়।

স্যালাইন খাওয়ানোর সময় বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ রাখবেন না। বাচ্চা যদি ৬ মাসের বেশি বয়সি হয়, তাহলে অর্ধ তরল বা শক্ত খাবারও দেওয়া উচিত।

প্রশ্ন: যদি পানিশূন্যতার কারণে রোগী অচেতন হয়ে পড়ে?

উত্তর: তাহলে যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নিতে হবে।

তবে যদি কোনো কারণে ঐ মুহূর্তে হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব না হয়, বা অ্যাম্বুলেন্স আসার আগ পর্যন্ত ৫ মিনিট পরপর তার ঠোঁটে একটু একটু করে

স্যালাইন দিতে থাকতে হবে, যতক্ষণ না প্রস্রাবের পরিমাণ ঠিক হয়।

প্রশ্ন: কতদিন পর্যন্ত স্যালাইন দিয়ে যেতে হবে?

উত্তর: ডায়রিয়া যতদিন পুরোপুরি না সারে। তার আগপর্যন্ত স্যালাইন ও অন্যান্য তরল খাবার চালিয়েই অনেক বেশি পরিমাণে যেতে হবে।

তবে সাধারণত ২/৩ দিনের বেশি ডায়রিয়া থাকে না।

প্রশ্ন: ডায়রিয়ায় জিংক সাপ্লিমেন্ট খাওয়ানো কি ভালো?

উত্তর: ডায়রিয়ার ব্যাপ্তি কমিয়ে আনার জন্য জিংক চমৎকার কাজ করে। তাই এখন স্যালাইনের পাশাপাশি জিংকও ডায়রিয়ার জরুরি পথ্য। 

তবে কোন বয়সি রোগী কতটা জিংক গ্রহণ করবেন সেটার জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

স্যালাইন জীবন রক্ষাকারী হিসাবে যেমন কাজ করে, তেমনি এটি সঠিক নিয়মে না খাওয়ালে জটিলতা আরও বাড়তে পারে। তাই এই ব্যাপারে সতর্ক থাকা উচিত সবার।

তথ্যসূত্র:

https://rehydrate.org/solutions/homemade.htm

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

সম্পর্কিত পোস্ট

আরও আরও...আর পাওয়া যায়নি.