মানসিক স্বাস্থ্য

কোন কোন খাবারে ভালো থাকবে মানসিক স্বাস্থ্য!

এটা তো সবাই জানি যে, সিঙ্গারা, সমুচা বা আইসক্রিমের মতো খাবারগুলো জিহ্বার তৃপ্তি ও মনের আনন্দ দিতে পারে। আবার খেয়াল করে দেখবেন যে মানসিক চাপ বা বিষণ্ণতার সময় অনেকের ভারী চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়ার ইচ্ছা ও ক্ষুধা দুটোই যেন বেড়ে যায়।

কিন্তু মানসিক স্বাস্থ্যের দীর্ঘমেয়াদি উন্নতির জন্য এসব নয় বরং স্বাস্থ্যকর খাবারই বেশি উপযুক্ত। সুস্থ ও প্রফুল্ল মনের সাথে আমাদের খাদ্যাভাসের যে সরাসরি সম্পর্ক থাকে এটা আমরা প্রায়ই ভুলে যাই।

খাদ্যাভাসের সাথে মানসিক স্বাস্থ্যের সম্পর্ক কীভাবে?

সেরোটোনিন নামক নিউরোট্রান্সমিটার আমাদের ঘুম, ক্ষুধা ও মানসিক অবস্থা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। পরিপাকতন্ত্রের মধ্যে লক্ষ লক্ষ স্নায়ু কোষ থাকে যেখান থেকে সেরোটোনিন উৎপাদন ও নিঃসরণ হয়। তাই পরিপাকতন্ত্র শুধু খাবার হজমই করে না, মানসিকভাবেও আমাদের ভালো রাখে।

এছাড়া পরিপাকতন্ত্রে বাস করে কয়েক বিলিয়ন উপকারী ব্যাকটেরিয়া যা হজমে ও খাবার থেকে পুষ্টি শোষণে সহায়ক। গবেষণায় দেখা গেছে এই উপকারী ব্যাকটেরিয়া মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণেও অনেক ভূমিকা রাখে। 

বিভিন্ন ধরনের খাদ্যাভাসের ওপর গবেষণা:

সাম্প্রতিককালের একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে যারা প্রাকৃতিক ও সুষম খাদ্যে অভ্যস্ত তাদের মানসিক স্বাস্থ্য প্রক্রিয়াজাত খাবারে অভ্যস্ত ব্যাক্তিদের চেয়ে ভালো থাকে। এই গবেষণাগুলো করা হয়েছিল মূলত ভূমধ্যসাগরীয় খাদ্যাভাসকে প্রক্রিয়াজাত খাদ্যাভাসের সাথে তুলনা করে। ভূমধ্যসাগরীয় খাদ্যাভাসে প্রধানত রয়েছে স্বাস্থ্যকর চর্বিসমৃদ্ধ মাছ, অলিভ অয়েল এবং শাকসবজি। স্বাস্থ্যকর খাদ্য বিষণ্ণতা কমাতেও সাহায্য করে বলে দেখা গেছে।

মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কী খাওয়া উচিত

  • বিভিন্ন ধরনের বাদাম, তেলযুক্ত মাছ, জলপাই তেল, তিলের তেল, শস্যবীজ যেমন তিল, তিসি ইত্যাদি প্রাকৃতিক ও স্বাস্থ্যকর তেল ও তেলের উৎস বেশি বেশি খাওয়া উচিত।
  • অধিক প্রক্রিয়াজাত খাবার, যেমন সাদা চিনি ও চিনিযুক্ত খাদ্য, ফ্রোজেন খাবার, চিপস, সফট ড্রিঙ্ক ইত্যাদি এড়িয়ে চলতে হবে।
  • দিনে কমপক্ষে দুইবার আলাদাভাবে ফলমূল ও শাকসবজি খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে।
  • আঁশযুক্ত খাবার বেশি খেতে হবে, ফলমূল-শাকসবজি ছাড়াও লাল চাল ও লাল গম আঁশের ভালো উৎস।
  • পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করতে হবে। চিনি ছাড়া ফলের রস বা অন্য পানীয় স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।

শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম, ধূমপান বর্জনের সাথে সুষম খাদ্যাভ্যাস শরীর ও মনের মঙ্গলের জন্য নিশ্চিত করা দরকার। জীবনযাপনের অনেক ধরনের দুশ্চিন্তা, চাপ আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে হলেও আমাদের খাবার ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর অভ্যাস মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করতে পারে।

তথ্যসূত্রঃ 

https://www.healthline.com/health/depression/exercise#Can-diet-impact-your-mental-health

https://www.health.harvard.edu/blog/nutritional-psychiatry-your-brain-on-food-201511168626

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

সম্পর্কিত পোস্ট

আরও আরও...আর পাওয়া যায়নি.